আপনি পড়ছেন

একাকিত্ব যে কত বড় যন্ত্রণার, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। তবে এর কিছুটা হলেও অনুভব করেছেন শোজি। আর সেটাকেই তিনি বানিয়েছেন অর্থ উপার্জনের মাধ্যম। আজব এই পেশায় ভালোই উপার্জন করছেন তিনি। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।

shoji morimotoশোজি মরিমাটো

জাপানের টোকিওর বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি শোজি মরিমোটো। পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পাননি। বেকারত্বের যন্ত্রণা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছিল। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, চাকরি নয়, অন্য কিছু করবেন। যাতে কারো কাছে ধরনা দিতে না হয়। তবে সেটা ঠিক ব্যবসাও নয়। অন্য কিছু। অন্য রকম একটা কিছু।

তারপর অনেক চিন্তা ভাবনা করে ‘ডু নাথিং রেন্ট অ্যা ম্যান’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেন। তারপর থেকেই বিভিন্ন স্তরের মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন তার পরিষেবা নিতে। কারণ তার পরিষেবার ধরনটাই ছিল ভিন্ন রকম।

shoji morimato with claintক্লায়েন্টের সাথে শোজি

এমন অনেক মানুষ আছেন, সারাদিন যাদের সময় কাটে একাকি। বাড়ির অন্য সদস্য থাকলেও হয়তো ব্যস্ত থাকার কারণে সেভাবে সময় দিতে পারেন না। আবার অনেকের কেউ নেই। এমন মানুষদের একাকিত্বের সঙ্গী হন শোজি।

শোজির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যাদের কথা বলার লোকের অভাব, তাদের সাথে কথা বলা, যাদের কথা শোনার লোকের অভাব, তাদের কথা শোনা। খাওয়া-দাওয়ার সময়ে পাশে বসে থাকা। ব্যস এতটুকুই শোজির দায়িত্ব।

নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে শোজি অত্যন্ত পেশাদার। কাজের সময়টুকু ছাড়া কারও সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো যোগাযোগ রাখেন না। কোনো গ্রাহকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক যাতে গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও অত্যন্ত সতর্ক থাকেন তিনি।

শোজি বলেন, আমি আমার কাজ সম্পর্ক যথেষ্ট সচেতন। আমি নিজের উপস্থিতির বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করি। আমার সঙ্গ পেয়ে সামান্য সময়ের জন্য হলেও কেউ যদি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, তাহলে সেটাই আমার সফলতা।

জানা গেছে, কর্মমুখর টোকিওতে একাকিত্বে ভোগা লোকেরও অভাব নেই। আর সে কারণে শোজির থিমটি পছন্দ হয়েছে অনেকের। এরই মধ্যে শোজিকে অনুসরণ করে প্রায় ৩০০০ জন এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর