advertisement
আপনি পড়ছেন

করোনার দুই বছরে পুরো বিশ্বে চাকরি নিয়ে হাহাকার চলছে। করোনার প্রকোপ যেতে না যেতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। তাতে বিশ্বের অবস্থা তো বটেই, চাকরির বাজার হয়েছে আরও নড়বড়ে। অথচ এই দুর্দিনেও চীনের এক তরুণী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন স্রেফ অভিমানে। অবশ্য ঘটনাটি শুনে অনেকেই বলছেন, অভিমান যুক্তিসঙ্গত। চীনের গণমাধ্যমসূত্রে এ ঘটনা জানা গেছে। খবর ইন্ডিয়া টাইমস।

weddingসহকর্মীরা বিয়েতে না আসায় অভিমানে চাকরি ছেড়েছেন চীনা তরুণী

ঘটনার শুরুটা ছিল ভালোই। অজ্ঞাতনামা ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিছুদিন আগে। এর পরপরই রীতিমতো বিয়ের কার্ড দিয়ে অফিসের সব পর্যায়ের সব কর্মীকে নিমন্ত্রণ করেন তিনি। প্রথমটায় ভেবেছিলেন, অফিসের সবাইকে হয়তো নিমন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। কেবল উচ্চপদস্থ ও ঘনিষ্টদেরই দাওয়াত দেবেন। কিন্তু পরে তার ধারণা হয়, এমনটি করলে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই অফিসের সবাইকেই নিমন্ত্রণ করেন তিনি। ওই অফিসে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৭০ জন কর্মরত ছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠানে অফিস কলিগদের অংশগ্রহণ অন্যরকম একটি আবহ তৈরি করে। ওই তরুণীও সেটিই প্রত্যাশা করেছিলেন। সেজন্য পূর্ণ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। পরিবারকে বলে বিশেষভাবে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য ছয়টি টেবিল আলাদা করে রেখেছিলেন।

তাদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কনে। কিন্তু শেষপর্যন্ত চরম হতাশ হতে হয় তাকে। ৭০ জন সহকর্মীর মধ্যে মাত্র একজন ওই বিয়েতে উপস্থিত হন। ফলে সবদিক দিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় তাকে। একে তো অনেকের উপহাস সহ্য করতে হয় ওই তরুণীকে। অন্যদিকে তাদের জন্য আয়োজন করা খাবারও নষ্ট হয়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয় ওই তরুণীকে।

বিষয়টি হজম করতে পারেননি নাম না জানা ওই তরুণী। পরদিন অফিসে ঢুকেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তিনি। কারণটাও জানিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। বলেছেন, পুরো অফিসের সবাইকে নিমন্ত্রণ করা সত্ত্বেও বিয়েতে একজন ছাড়া কেউ আসেননি। এ কারণেই চাকরি ছাড়ছেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে বড় ধরনের অস্বস্তিতে পড়েন সহকর্মীরা।