advertisement
আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। বিচারক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়ে ইমরান খান যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর ধারায় মামলা করার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়নি বলে আদালত মন্তব্য করেছেন।

imran khan 2022 1এক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে ইমরান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছিল

ইসলামাবাদের ম্যাজিস্ট্রেট আলী জাভেদের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইমরান খানের বিরুদ্ধে যে এফআইআর নথিবদ্ধ করেছে, তাতে সন্ত্রাস দমন আইনের কয়েকটি ধারা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহর নেতৃত্বে আদালতের দুই সদস্যের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যে বক্তব্যের জেরে ইমরান খানের বিরুদ্ধে এসব ধারায় মামলা করা হয়েছে, সেভাবে চললে আদালতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার বন্যা বয়ে যাবে।

গত ২০ আগস্ট ইসলামাবাদে এক জনসভায় ইমরান খান পিটিআই নেতা অধ্যাপক ডক্টর শাহবাজ গিলকে একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে ইসলামাবাদ পুলিশের আইজিসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন। একইসঙ্গে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ শাহবাজ গিলের দুইদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করায় ইসলামাবাদের অতিরিক্ত দায়রা জজ জেবা চৌধুরীর লজ্জা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

জনসভার পরদিন ইসলামাবাদ পুলিশ জানায়, ইমরান খানের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে আলী জাভেদ নামে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ইসলামাবাদের মারগালা পুলিশ স্টেশনে আগের রাতে অভিযোগ করেছেন। এর ভিত্তিতে খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ধারায় একটি মামলা হয়েছে।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আজকের শুনানির শুরুতে আদালত মামলার বিষয়ে যৌথ তদন্ত টিমের (জেআইটি) অভিমত জানতে চান। এ সময় বিশেষ কৌসূলী রিজওয়ান আব্বাসি বলেন, জেআইটি মনে করছে অভিযুক্তের বক্তব্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা প্রয়োগ হতে পারে।

জবাবে ইমরান খানের আইনজীবী বলেন, কেউ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা যেতে পারে। কিন্তু কেউ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন এমন সম্ভাবনার কথা বলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা যায় না। ইমরান খানের বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশ আদালতে পড়ে শোনান তার আইনজীবী।

ইমরান খানের বক্তব্যের ওই অংশটুকু নিয়েই অভিযোগ কিনা, আদালত জানতে চান। হাঁ-সূচক জবাব পেয়ে আদালত বলেন, এ বক্তব্যে বিতর্কিত কিছুই নেই। যেসব ধারায় মামলা করা হয়েছে, তার কোনোটি এ বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বহু অপব্যবহার হয়েছে। এভাবে চললে মামলার বন্যা বয়ে যাবে।