advertisement
আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ‘এক চীন নীতি’র কথা বলে, অন্যদিকে তাইওয়ানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এতোদিন ওয়াশিংটন এ নিয়ে কৌশলে চললেও দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায়ে আর রাখঢাক রাখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেন প্রকাশ্যেই বলছেন, চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ চালায়, তাহলে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার সিবিএসের 'সিক্সটি মিনিটস' অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

biden us bd0মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের মূল ভূখণ্ডের অংশ বিবেচনা করে চীন। তবে চীনের সেই বশ্যতা স্বীকার করে না স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান। সম্প্রতি তাইওয়ান সফর করেন মার্কিন পার্লামেন্টের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হাউস স্পিকারের মতো কোনো বড় মার্কিন কর্মকর্তা তাইওয়ান সফর করলেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন।

পেলোসির সফরকে চীনের স্বার্থে উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরকার। প্রতিবাদে বেইজিং তা্ওয়ানকে ঘিরে বড় রকমের সামরিক মহড়া চালায়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর চীনের বিরোধিতা সত্ত্বেও কয়েক দফায় মার্কিন কর্মকর্তারা তাইওয়ান সফর করেন।

এ নিয়ে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে জোরালো আশংকা দেখা দিয়েছে যে, চীন অদূর ভবিষ্যতে ঞয়তো তাইওয়ানে আক্রমণ চালিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রটি পুরো দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

সিবিএসের সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে এ নিয়েই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। চীন হামলা চালালে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে মার্কিন সেনারা রক্ষা করবে কিনা – এমন প্রশ্নের বাইডেন জোর দিয়েই বলেন, হ্যাঁ করবে, সত্যিই এমন যদি নজিরবিহীন কোন আক্রমণ হয়।

তবে বাইডেন বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহও দিচ্ছে না। তিনি বলেন, 'এক চীন' নীতি রয়েছে আমাদের। আর স্বাধীনতা ইস্যুতে তাইওয়ানের সিদ্ধান্ত  একান্তই তাদের নিজেদের ব্যাপার। আমরা তাইওয়ানবাসীকে স্বাধীন হতে উৎসাহিত করছি না, সেই সিদ্ধান্ত তাদের।

একদিকে বাইডেন বলছেন, এক চীন নীতির কথা, আবার বলছেন, তাইওয়ানকে রক্ষা করবেন- তার এমন বৈপরিত্য বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিতে তাইওয়ানের ব্যাপারে সামরিক পদক্ষেপের কোনো অঙ্গীকার নেই, সেটির কোনো পরিবর্তনও হয়নি।

তবে তাতে খুব বেশি তুষ্ট হয়নি বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বাইডেনের তাইওয়ান রক্ষার প্রতিশ্রুতির নিন্দা জানায়। বাইডেনের এ মন্তব্যের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেইজিং।

উল্লেখ্য, চীন-তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন বরাবরই দুই কুল রক্ষা করে চলার কূটনৈতিক অবস্থানে থেকেছে। বেইজিংয়ের 'এক চীন' নীতি মানার কথা বলে ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখে। অন্যদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসেই তাইওয়ানের কাছে ১১০ কোটি ডলারের মিসাইল ডিফেন্স বিক্রি অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।