advertisement
আপনি পড়ছেন

অতীতে বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে দাবি করে ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, গ্যারান্টি ছাড়া কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে অর্থহীন। সিবিএস নিউজের সাথে ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে নিষেধাজ্ঞা অপসারণ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরুজ্জীবন বিষয়ে ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। খবর ইরনা নিউজ।

raisi in cbcসাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি

ভিয়েনা আলোচনায় একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি এটি ভালো ও ন্যায্য চুক্তি হয়, তবে আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস হব। এ ধরনের চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া দরকার এবং তার জন্য গ্যারান্টি দরকার। ২০১৫ সালের চুক্তির ক্ষেত্রে যদি কোনো গ্যারান্টি থাকত, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে এভাবে সরে যেতে পারত না।

পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে রাইসি বলেন, মার্কিনিরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা এটা একতরফাভাবেই করেছে। এমনকি এটা করে তারা বলছে, আমি চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছি। এ অবস্থায় কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

iran nuclear deal 3পরমাণু চুক্তিতে গ্যারান্টি চায় ইরান

মার্কিনিদের ওপর আস্থা রাখার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, তাদের কাছ থেকে আমরা ইতোমধ্যেই যে আচরণ দেখেছি বা পেয়েছি, তাতে আর তাদের বিশ্বাস করতে পারি না। সেজন্যই যদি কোনো গ্যারান্টি না থাকে, তাহলে তাদের ব্যাপারে কোনো আস্থা নেই।

তেহরানের ওপর আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো খুবই নির্মম। এটি ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অত্যাচার। নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় রাইসি বলেন, হ্যাঁ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে তারা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরো কিছু দেশের ওপরও দিচ্ছে। মার্কিনিদের এমন আচরণে অতিষ্ঠ দেশগুলো এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সবাই মিলে একসময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অকার্যকর করে তুলবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ দাবি করে তিনি আবারো বলেন, ইরান ওষুধ, কৃষি, তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি ব্যবহার করবে। কারণ ইরান বহুবার জানিয়েছে, আমাদের নীতিতে পরমাণু অস্ত্র রাখার কোনো স্থান নেই।

দুই দেশের মধ্যে বন্দীবিনিময় নিয়ে তিনি বলেন, এটা একটা মানবিক বিষয় এটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এটা পরমাণু চুক্তির সাথে বা বাইরে যে কোনোভাবে হতে পারে।

নিউইয়র্ক সফরের সময় বাইডেনের সাথে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে রাইসি বলেন, না। আমার মনে হয় না এমন কোনো বৈঠক হবে। কারণ তার সাথে আলোচনা কোনো দিক দিয়ে ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক কাসেম সোলাইমানির হত্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার জন্য ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে তৎকালীন মার্কিন সরকার যা করেছিল, সেটি ছিল জঘন্য একটি অপরাধ। আমার এর বিচার চাই। আমরা কোনেভাবেই এটি ভুলে যাব না।