advertisement
আপনি পড়ছেন

নারী ফুটবল দলের সাফল্যে আনন্দে মাতোয়ারা গোটা দেশ। ১৯ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে দেশকে সাফ ফুটবলের ট্রফি এনে দিয়েছে সাবিনা খাতুনের দল। নারী ফুটবলে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষায় এখন সবাই।

womens saff championship 2022 bangladesh makes historyবাংলাদেশ নারী ফটবল দল

বুধবার দুপুরে নেপাল থেকে দেশে ফিরবে শিরোপা জয়ীরা। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলটাকে নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। তাদেরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ছাদখোলা বাস।

যদিও এই ফুটবলারদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করার কোনো ঘোষণাই এখনো আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া শব্দ নেই। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করলেও অর্থ পুরস্কারের কথা জানায়নি কিছুই। সানজিদা-কৃষ্ণাদের অভিবাবক বাফুফেও এ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

দেশকে গৌরবান্বিত করা দলটার ফুটবলাররা উঠে এসেছে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বেশিরভাগ ফুটবলারের পরিবার স্বচ্ছল নয়। ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে দুই গোল করা কৃষ্ণা রানী সরকারের মা তো বিদ্যুৎ না থাকায় খেলাই দেখতে পারেননি। তার ভাই উপোশ করেছেন বোনের সফলতা কামনায়।

আঁখি, শামসুন্নাহাররা বেশিরভাগই কুড়ে ঘর থেকে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

তাদেরকে ঘিরে চলমান আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে আর্থিক বিষয়টি। অনেকের মনে আগ্রহ এই মেয়েরা ফুটবল খেলে কতটা আয় করতে পারছে? বাফুফে তাদেরকে কতটা আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে?

খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, কঠিন বাস্তবতার খবর। বাফুফের সূত্র মঙ্গলবার জানিয়েছে, নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা মাসিক বেতনভুক্ত। মাসিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা তাদের বেতন। তাও দেওয়া হয় তিনভাগে ভাগ করে।

এর বাইরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টিএ-ডিএ বাবদ ২০০ থেকে ৩০০ ডলার দেওয়া হয় প্রত্যেক ফুটবলারকে। এছাড়া বাফুফে তাদের ঢাকায় থাকা-খাওয়া, অনেকের পড়াশোনার খরচ দেয়।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই ফুটবলারদের কোনো ম্যাচ ফি নেই। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে কোনো ম্যাচ ফি পায় না ওরা। টুর্নামেন্ট জিতুক, কাপ জিতুক ম্যাচ ফি বলতে কিছু বরাদ্দ নেই ওদের জন্য।

যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটা বিরলই বলতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ ফি পেয়ে থাকেন। সানজিদা-সাবিনাদের ভাগ্যে যা এখনও দূর আকাশের চাঁদ।