advertisement
আপনি পড়ছেন

বেশ কিছুদিন রান পাচ্ছিলেন না। চারদিক থেকে সমালোচনার তীর ছুটে আসছিল। তবে যারা তাকে চেনেন তারা বিশ্বাস হারাননি। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখলেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম। তার মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে এনে দিলের ১০ উইকেটের বিজয়, সিরিজে নিয়ে এলেন সমতা।

babar rizwan 2দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়েই জয় পেয়ে যায় পাকিস্তান

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে করাচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারালেন সেই বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ান। দীর্ঘদিন পর তারা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। দুই ওপেনারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ। ২০০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শতরান করলেন পাক অধিনায়ক। পাকিস্তানের একটাও উইকেট পড়ল না! অর্থাৎ, ১০ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরালেন বাবররা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মঈন আলি। শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার ফিলিপ সল্ট ও অ্যালেক্স হেলস। এই জুটিতে ওঠে ৪২ রান। এরপর শাহনাওয়াজ দাহানি হেলসকে আউট করেন ব্যক্তিগত ২৪ রানে। ওয়ানডাউনে নামা ডেভিড মালানকেও ফেরান তিনি। এরপর সল্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বেন ডাকেট। এ জুটি দলকে নিয়ে যায় ৯৫ রান পর্যন্ত। ৩০ রান করে হ্যারিস রউফের বলে আউট হন সল্ট। পরের ওভারেই ডাকেটের উইকেট নেন মোহাম্মদ নাওয়াজ।

babar centuryবাবরের সেঞ্চুরির পর অভিনন্দন জানান রিজওয়ান

দল কিছুটা চাপে পড়লেও অধিনায়ক মঈনের ঝোড়ো ইনিংসে দলের স্কোরবোর্ডে খুব দ্রুই রান যোগ হতে থাকে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন হ্যারি ব্রুক। তিনি ১৯ বলে ৩১ রান করে হারিস রউফের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। দলের রান তখন ১৬০। এরপর স্যাম কারানকে নিয়ে দলকে শেষপর্যন্ত টেনে নিয়ে যান মঈন আলি। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ইনিংস শেষে তার নামের পাশে যোগ হয় ৫৫ রান। কারান করেন ১০ রান। পাকিস্তানকে তারা টার্গেট বেঁধে দেন পুরোপুরি দুইশ। দাহানি ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সমর্থকরা টেনশনে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের টেনশনমুক্ত করেন দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। যেন তাদের মনে পড়ে গিয়েছিল গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটির কথা। যেন বিগত কয়েকমাসের সব সমালোচনা ধুয়ে মুছে ফেলার দায়িত্ব নিয়েছেন কাঁধে। শুরু থেকে একই তালে খেলে যাচ্ছিলেন পাকিস্তানের এই দুই ব্যাটিং স্তম্ভ।

পাওয়ার প্লেতেই ৫৯ রান তুলে ফেলেন তারা। রিজওয়ানকে আউট করার একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ফিল্ডাররা। কিন্তু সে ক্যাচ মিস করেন ইংল্যান্ডের সল্ট। জীবন পেয়ে আরও হাত খুলে খেলতে শুরু করেন রিজওয়ান। অন্যদিকে বাবরও অনেকদিন পর যেন নিজেকে ফিরে পেলেন। খেলা যত এগোচ্ছিল, যেন দুইজনই আরো পরিণত হচ্ছিলেন। খুচরা রানের পাশাপাশি চার-ছক্কা মেরে ম্যাচকে সব সময় নিজেদের নাগালে রাখছিলেন। মাঠে শিশির পড়ায় বল করতে কিছু সমস্যা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের স্পিনারদের। কিন্তু তাতে এই দুই ব্যাটারের কৃতিত্ব মোটেও ঢাকা পড়েনি।

ম্যাচের তিন বল বাকি থাকতেই প্রয়োজনীয় স্কোর সংগ্রহ করে ফেলে এই ওপেনিং জুটিই। পুরো ১০টি উইকেট অক্ষত রেখেই তারা ফেরেন প্যাভিলিয়নে। রিজওয়ান ৫১ বলে খেলেন ৮৮ রানের ইনিংস। আর বাবর ৬৬ বলে করেন ঝকঝকে ১১০ রান। আর হ্যাঁ, রিজওয়ান ও বাবরের স্ট্রাইক রেটটাও অনেকের মুখ বন্ধ করতে সাহায্য করবে। যথাক্রমে তাদের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭২.৫৪ এবং ১৬৬.৬৬।

এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটারের তালিকা খুললেন বাবর। এছাড়া বাবর-রিজওয়ানের এ জুটি রান তাড়ায় এখন টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারাই গড়েছিলেন অবিচ্ছিন্ন ১৯৭ রানের জুটি। এবার সেটাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে গতকাল নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।