আপনি পড়ছেন

ইরানে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনি নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নিশ্চয়তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে এ ঘোষণা দেন রাইসি। হিজাব না পরায় তেহরানে আটক ওই কুর্দি তরুণীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর দেশটিজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশ-বিক্ষোভকারীসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি।

iran unrest 23কুর্দি তরুণী মাহসার মৃত্যুর পর তেহরানে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ

জাতিসংঘে ভাষণদানকালে ইরানি প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, পুলিশ হেফাজতে ওই নারীর ‍মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই তদন্ত হবে। রাইসি বলেন, ওই তরুণীকে মারধর করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে আটক হওয়ার পর হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ওই তরুণী। বিক্ষোভ-সহিংসতায় জড়িতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সহ্য করা হবে না।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উস্কানির জন্য পশ্চিমাদের অভিযুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা দ্বৈতনীতির ভন্ডামিতে ভুগছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ইরানে নৈতিকতা পুলিশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে তারা।

এ নিয়ে রাইসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিদিনই পুলিশের হাতে নারী-পুরুষের মৃত্যু ঘটনা আমরা দেখছি। সেটি নিয়ে তাদের নিজেদের কোনো মাথাব্যথা দেখি না আমরা।

বাবা-মায়ের সঙ্গে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে বেড়াতে এসেছিলেন ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি। মাথায় হিজাব না থাকায় তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ সদস্যরা তাকে আটক করে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনদিনের মাথায় শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

মাহসার মৃত্যুতে তার নিজ শহর কুর্দিস্তানের সাকেজে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৫০টি শহরে। বিক্ষোভকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ৯ জন। তাদের মধ্যে ৬ জন বিক্ষোভকারী। এ নিয়ে নিন্দা ও সমালোচনা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর