আপনি পড়ছেন

মহালয়া দেখতে গিয়ে নৌকাডুবিতে শিশু সন্তান ও স্ত্রীসহ ৪ চার স্বজনকে হারিয়েছেন রবিন চন্দ্র। তিনি পেশায় একজন ভাটাশ্রমিক। তার বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিডুবা ছত্রশিকারপুর গ্রামে। স্বজন হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়েছেন রবিন চন্দ্র। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘সারাদিন কাজ করে টাকা জমাচ্ছিলাম নতুন কাপড়-পচাপড় কেনার জন্য। সেই টাকা দিয়ে এখন স্বজনের লাশ সৎকার করতে হবে।’

panchagarch korotoaনতুন কাপড় কেনার টাকায় ৪ স্বজনের সৎকার

এই শ্রমিক বলেন, বাচ্চাটা নতুন কাপড় নেবে বলে খুব বায়না ধরেছিল। তবে আমি বলেছিলাম, মহালয়া শেষ হলে কিনে দেবো। আমার বাচ্চার আর নতুন কাপড় পরা হলো না। আমার সব শেষ হয়ে গেল। কি নিয়ে বেঁচে থাকব আমি?’

জানা গেছে, করোতোয় নদীতে নৌকাডুবিতে রবিনের স্ত্রীর সঙ্গে মারা যায় তার তিন বছর বয়সী ছেলে বিষ্ণু রায়। এ ছাড়া মারা যায় ছোট ভাই কার্তিক রায়ের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী (২৫) ও বড় ভাই বাবুল রায়ের ছেলে দীপঙ্কর (৩)।

এ প্রসঙ্গে দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তার ইউনিয়নের আটজনের লাশ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজন রবিনের পরিবারের সদস্য। বিষয়টি আসলে অনেক কষ্টদায়ক। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীর মাড়েয়া আলিয়া ঘাটে রোববার নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট করতোয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর