আপনি পড়ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির কথাই ছিল ১০টা হুন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার অধীনে কোনো দলই অংশ নেয়নি। বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে মনমতো লোক বসানো হয়েছিল। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি দুই দলই সামরিক ডিকটেটরশিপের হাতে গড়া। যারা গুমের অভিযোগ দিচ্ছে, তারা মূলত সরকারকে অপবাদ দিচ্ছে। ভয়েস অব আমেরিকায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি বুধবার প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন শতরূপা বড়ুয়া।

pm sheikh hasina 2022প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগের ফলে দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, মিডিয়ায় সেল্ফ সেন্সরশিপ চলছে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছিয়ানব্বই সালে আমি যখন সরকারে আসি, সেই সময় বাংলাদেশে মাত্র একটি মিডিয়া অর্থাৎ একটি টেলিভিশন ছিল। সেটিও সরকার পরিচালিত। কোনো বেসরকারি মিডিয়া ছিল না। একটি মাত্র রেডিও ছিল সরকার পরিচালিত। বেসরকারি সামান্য কয়েকটি পত্রিকা ছিল। আমি সরকারে আসার পর গণমাধ্যম বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিলাম। আমরা ৪৪টি টেলিভিশনের অনুমোদন দিয়েছি।

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের দাবির প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন করেছিল বিএনপি। আমরা আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছি। বাজেট দেওয়া হয়েছে। তারা তা ব্যবহার করবে। সরকার কোনো কিছুতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশ পিছিয়ে যায়নি। গণতান্ত্রিক ধারাটা তাদের পছন্দ না।

বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশন গঠনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দাবির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আমাদের আছে। তারা তদন্ত করছে। নিখোঁজ-গুমের তালিকা চাইলে সত্তরজনের তালিকা পেয়েছি। নিখোঁজদের অধিকাংশকেই মিছিলে পাওয়া গেল। কেউ কেউ ধার-দেনায় নিজেরাই লুকিয়ে ছিল। এই দেশে জিয়ার আমলে শত শত অফিসার, সৈনিক, আওয়ামী লীগ কর্মী গুম হয়েছে। লাশও পাইনি, খবরও পাইনি। আজকে যারা এসব বলে এটা অপবাদ ছাড়া কিছুই নয়।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানিরা যেভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, একইভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনার অত্যাচার করেছে। তাদের ওপর একারণেই আমরা সহানুভূতিশীল। কিন্তু আমরা এমনিতে ঘনবসতির দেশ। দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর। এখন রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন থাকার ফলে কক্সবাজারের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা কষ্ট পাচ্ছে। চাষের জমি নষ্ট হচ্ছে। ক্যাম্প করে রখাতে বিরাট জায়াগা দিতে হচ্ছে। তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। আমরা আর কত করব।

ভয়েস অব বাংলার সাংবাদিক জানতে চান, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা কোনো ব্যক্তির রক্ত সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না- এমন কোনো আইন তৈরির পরিকল্পনা আছে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরই মিলিটারি ডিকটেটররা নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেওয়া শুরু করল।

পরবর্তীতে পচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। যারা এই হত্যা করল তারাই জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করল। জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করল। আর্মি রুলস, অ্যাক্ট সবকিছু ভায়োলেট করে ক্ষমতা দখল করে ফেলল। ঠিক একই কায়দা অনুসরণ করে জিয়া নিহত হলো। জেনারেল এরশাদ একই কায়দায় আসল।

এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম গণতন্ত্রের জন্য। এর পরের নির্বাচনটাও সামরিক প্রভাবিত ছিল। মিলিটারি ডিকটেটরদের তৈরি করা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রশাসন সবই আগে থেকে তৈরি করা ছিল। নির্বাচনে কোনো দলই মেজরিটি পেল না। জামায়াত ইসলামির সাথে হাত মিলিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। দেখা গেল ক্ষমতা সেই ক্যান্টনমেন্টেই থেকে গেল।

তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচতি কোনো সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটায় বা জোর করে কোনো মিলিটারি ডিকটেটর বা কেউ ক্ষমতা দখল করে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেক্ষেত্রে অপরাধীর বিচার হবে, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে। এটুকু আমরা প্রটেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর