আপনি পড়ছেন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে স্বাধীন অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত পুতিনের ডিক্রিগুলো অঞ্চল দুটোর আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে একটি মধ্যবর্তী পদক্ষেপ। খবর আল জাজিরা ও আরটি ওয়ার্ল্ড।

putin decreeখেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন পুতিন

পুতিন তার আদেশে বলেন, আমি দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার স্বীকৃতির আদেশ দিচ্ছি। উল্লেখ্য, রাশিয়া বাকি দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতেই। নতুন দুটির স্বীকৃতির মাধ্যমে চারটি অঞ্চলকেই স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দিল রাশিয়া।

আজ শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ চারটি অঞ্চলকেই রাশিয়ার সাথে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদের সেন্ট জর্জ হলে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মস্কো দাবি করেছে চারটি অঞ্চলেই পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণভোটে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে। এমনকি দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে রাশিয়ার অনুকূলে।

cremlinসংযুক্তি উপলক্ষে রেড স্কোয়ারে একটি কনসার্টের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা রাশিয়ার অভিযান ও সাম্প্রতিক গণভোট উভয়টিই পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা এ গণভোটকে প্রহসন উল্লেখ করে কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও রাশিয়ার এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক সিটিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাশিয়ার এই সংযুক্তি জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন করবে এবং এর কোনো আইনি মূল্য নেই। গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের অংশকে নিজ অধিভুক্ত করার এই পদক্ষেপকে চলমান সংঘাতের একটি বিপজ্জনক বৃদ্ধি হিসাবে বর্ণনা করে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক বিশ্বে এর কোনো স্থান নেই। এটা মেনে নেওয়া উচিত নয়।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার তার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। কিয়েভ এর আগে গণভোটের এই পরিকল্পনাটিকে ক্রেমলিনের পাগলামি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, এ ব্যাপারে পশ্চিমের একমাত্র উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া হল মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করা।

গণভোটের মাধ্যমে এই সংযুক্তিকরণের অর্থ, রাশিয়া এখন থেকে এসব অঞ্চলে তার সামরিক কার্যক্রম চালাবে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার সাথে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এসব অঞ্চল রাশিয়ার অংশ হিসেবেই স্বীকৃত হবে। এগুলোর নিরাপত্তায় প্রয়োজনে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারেও প্রস্তুত আছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, পুতিন শুক্রবার ক্রেমলিনে এ বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে অঞ্চলগুলোর প্রশাসকরা রাশিয়ায় যোগদানের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর