আপনি পড়ছেন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি চাই কিয়েভ কর্তৃপক্ষ ও তাদের পশ্চিমা প্রভুরা আমার কথা মন দিয়ে শুনে রাখুক। সবার যেন মনে থাকে যে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপরোঝঝিয়া ও খেরসনের মানুষ অনন্তকালের জন্য আমাদের নাগরিক হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে বেঈমানি করব না।

putin donbas leaders1পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

পুতিন আজ বিকেলে ক্রেমলিনের গিওর্গিভস্কি হলে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দোনেৎস্কের পক্ষে ডেনিস পুশিলিন, লুহানস্কের পক্ষে লিওনিদ পাশেচনিক, খেরসনের পক্ষে ভ্লাদিমির সালদো ও জাপরোঝঝিয়ার পক্ষে যেভান বালিতস্কি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আমাদের মাতৃভূমি ও মূল্যবোধকে পশ্চিমা আগ্রাসন থেকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করব। পশ্চিমারা জ¦লে মরছে কেন পৃথিবীতে রাশিয়ার মতো সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন অতীতের বিষয়। অতীত ফিরিয়ে আনা যায় না। আধুনিক রাশিয়া যাদের, তাদের সোভিয়েত ইউনিয়ন দরকার নেই।

ইউক্রেনকে অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে জনগণের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, সেটা এখন থামান। আলোচনায় আসুন। তবে জনগণের ইচ্ছা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। জনগণ তাদের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছে। ডনবাস ও দক্ষিণে যে বিপ্লব হয়েছে, তা রুশ বসন্ত। আমরা রুশ বসন্তের নায়কদের চিরকাল স্মরণ রাখব।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশ পুনর্গঠন করব। ধ্বংস হওয়া ছোটবড় শহরগুলো পুনর্নির্মাণ করব। আমরা নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো, হাসপাতাল নির্মাণ করবো। ডনবাসের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছে। আমরা তাদের সুরক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করব।

পুতিন বলেন, পশ্চিমারা চায় আমরা যেন তাদের উপনিবেশ হই। আমরা প্রাণহীন, মেরুদণ্ডহীন দাস হলেই তারা খুশি। আমাদের স্বকীয় চেতনা, মূল্যবোধ ও দর্শনকে তারা হুমকি মনে করে। এজন্য তারা দার্শনিকদেরও আক্রমণ করে, হত্যার চেষ্টা চালায়। তারা যে ‘রুলস-বেজড অর্ডার’-এর কথা বলে, সেটা ফালতু। মনে-প্রাণে তারা সবসময় উপনিবেশবাদী। উপনিবেশ টিকিয়ে রাখাটাই তাদের ‘রুলস-বেজড অর্ডার।

ইউরোপে রুশ গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইনে নাশকতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, অ্যাংলো-স্যাক্সনরা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমাদের কাবু করতে পারেনি। এখন তারা নাশকতার পথ অবলম্বন করছে। তারা ইউরোপের অবকাঠামো ধ্বংস করা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কার্যতঃ জার্মানি, কোরিয়া ও জাপানের ভূখ- দখল করে রেখেছে। তারা আমাদেরকে নিজেদের মতো মনে করছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা অর্থনৈতিক মডেলেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কাগুজে টাকা দিয়ে মানুষের পেট ভরে না। মার্কিনীরা জোর করে, জিম্মি করে সবার সবকিছু হাতিয়ে নিতে চায়। রীতিমতো গোয়েবলসের মতো মিথ্যা বলে তারা। এখন ওয়াশিংটনের কর্তারা রাশিয়া, চীন ও ইরানকে আটকে রাখতে চাইছে। পরবর্তীতে তারা অন্যান্য দেশকে টার্গেট করবে। এরপর মার্কিন মিত্ররাও ওয়াশিংটনের টার্গেট হবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমাদের কোনো নৈতিকতা নেই, ধর্ম নেই, পরিবার বলে কিছু নেই। একেকটি শিশুর এক নম্বর বাবা, দুই নম্বর বাবা, তিন নাম্বার বাবা- এমন কিছু কি আমরা রাশিয়ায় চাই? এইসব বিকৃতি ও স্বেচ্ছাচার ওরা শিশুদের স্কুল থেকেই শেখাচ্ছে। পুরুষ ও নারীর বাইরে আর কোনো জেন্ডার আমরা চাই না। আমরা পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা অটুট রাখতে চাই।

সারাবিশ্বে মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব অঞ্চলে আমাদের সমমনা মানুষেরা রয়েছে। আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন দেখতে পাচ্ছি। এককেন্দ্রিক বিশ^ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীতে মুক্তির আন্দোলন গড়ে উঠছে। আমরা এককেন্দ্রিকতা ও জবরদস্তিকে চিরকালের জন্য আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে লড়াই করছি।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি বিশেষ শ্রেনী বা জাতির আধিপত্য ও অন্য শ্রেণী-জাতির বস্যতা টিকিয়ে রাখার নীতি অনৈতিক ও বেআইনি। আমাদেরকে অবশ্যই এ লজ্জাজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে হবে। পশ্চিমা আধিপত্যবাদের পতন শুরু হয়েছে, এটা ঠেকানো যাবে না। আগের মতো মাতব্বরির সুযোগ তারা পাবে না। সত্য আমাদের পক্ষে, রাশিয়া আমাদের পক্ষে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর