আপনি পড়ছেন

তুরস্ক-গ্রিস উত্তেজনা দিনকে দিন বাড়ছে। গ্রিসের এই লাফালাফির পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সমর্থন রয়েছে বলে মনে করেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তুরস্কের জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি চায় যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলার নামে তারা গ্রিসের কাছে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি গ্রিসে অনেকগুলো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করা হয়েছে। এজিয়ান সাগরে গ্রিসের পক্ষে সমর্থন দিতেই মূলত ওয়াশিংটনের এই আয়োজন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ওয়াশিংটনের এই অপতৎপরতার নিন্দা জানিয়েছেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

erdogan becoming the leader of muslim world 1এরদোয়ান

খবরে বলা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ দিন দিন বড় হওয়ার পেছনেও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাত। কারণ দেশটি ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিয়েই যাচ্ছে। রাশিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে কিয়েভের শক্তি দেখানোর মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিসে অস্ত্র পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। তুরস্ক-গ্রিসের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার পেছনেও যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। ন্যাটোর দুই সদস্য তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে চলমান উত্তেজনা না থামুক এটাই চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য গত কয়েক মাসে গ্রিসে ১০টি মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

কিয়েভকে অস্ত্র দিয়ে রাশিয়াকে মোকাবেলার চেষ্টা যেমন চলছে, তেমনি গ্রিসকে সমর্থনের মাধ্যমে ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী হতে চায়। যে বিষয়টি স্পষ্টত তুরস্কের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। আর এ জন্যই তুর্কি প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়াশিংটন গ্রিসে সামরিক ঘাঁটিগুলো কেন স্থাপন করেছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় এই ঘাঁটিগুলো বসানো হয়েছে।

গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র সরবরাহ, বিশেষ করে আলেকজান্দ্রোপলিতে সামরিক স্থাপনা নিয়ে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য কী, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

তুর্কি সামরিক বিশেষজ্ঞ ইউলাস পেহলিভান টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, রাশিয়ার হুমকি মোকবেলা ও ন্যাটো সংহতির নামে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ ও ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা হলো এজিয়ান সাগরে গ্রিসের পক্ষে সমর্থন দিতেই মূলত ওয়াশিংটনের এই আয়োজন।

আলেকজান্দ্রোপলিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকায়ন করেছে ধীরে ধীরে। এখন আঙ্কারার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে- ওয়াশিংটনের এই সামরিকায়নের মূল উদ্দেশ্য কী। পূর্ব ও উত্তর ইউরোপে শক্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আলেকজান্দ্রোপলি বন্দর ব্যবহার করছে। বন্দরটি তুরস্ক-গ্রিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর