আপনি পড়ছেন

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত আরব কূটনীতিকরা জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস না সরানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি একটি চিঠিতে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

liz truss and yair lapidলিজ প্রাসের সাথে ইয়ার লাপিদ

এক সপ্তাহ আগে লিজ ট্রাস জানিয়েছিলেন, তিনি জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এই পদক্ষেপের বিরোধিতাকারী কূটনীতিকদের পাঠানো একটি চিঠিতে লন্ডনে প্রতিনিধিত্ব করা সমস্ত আরব দেশের অনুমোদন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েল জেরুজালেমকে তার রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। অপরদিকে ফিলিস্তিনিরা অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যত রাজধানী হিসেবে দাবি করে। প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল।

এদিকে বেশিরভাগ বিদেশি দূতাবাস জেরুজালেমের পরিবর্তে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে অবস্থিত। মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং ইহুদীদের কাছে ধর্মীয় কারণে জেরুজালেম গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে পবিত্র এই শহরটির ওপর কোন পক্ষের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয় না।

কিছু আরব কূটনীতিক বিশ্বাস করেন যে ট্রাস যদি দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান তবে ব্রিটেন এবং গালফ কর্পোরেশন কাউন্সিল(জিসিসি) এরমধ্যে আসন্ন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিপন্ন হতে পারে। চুক্তিটি চলতি বছর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) মিত্ররা এই পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতি পরামর্শও দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ বৈঠকের ফাঁকে ইসরায়েলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন লিজ ট্রাস। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের বিষয়ে বিবেচনা করছেন তিনি। 

২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করেছিলেন। 

লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ কে দুর্বল করবে। এছাড়া এটি ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক দায়িত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর