আপনি পড়ছেন

দেশ ছেড়েছেন বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতাচ্যুত সামরিক নেতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি সান্দাওগো দামিবা। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুইদিন পর রোববার (২ অক্টোবর) তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন। তিনি আফ্রিকার দেশ টোগোতে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর দ্য হিন্দু।

paul henri sandaogo damibaলেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি সান্দাওগো দামিবা

এর আগে মধ্যস্থতাকারী ধর্মীয় নেতাদের দামিবা জানিয়েছিলেন, তার নিরাপত্তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। পাশাপাশি নতুন নেতা ট্রাওরেসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক ব্লক ইকোওয়াসের প্রতি দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দামিবা সম্প্রতি ২০২৪ সালের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন।

এর পরে অভ্যুত্থানকারী দলের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের নেতা ইব্রাহিম ট্রাওরের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান মনোনীত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

burkina faso fireবিক্ষোভকারীরা ফরাসি দূতাবাসে আগুন লাগিয়ে দেয়

এ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো হওয়া এই সামরিক অভ্যুত্থানে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জিহাদি সহিংসতা থেকে দেশকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত জানুয়ারিতে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন দামিবা। কিন্তু তিনি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ কতে পারেননি। বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। গত সপ্তাহে, সাহেলের গাসকিন্দে একটি কনভয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় ১১ সেনা নিহত এবং ৫০ জন বেসামরিক লোক নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের দেখা দেয়।

এরইমধ্যে গত শুক্রবার দামিবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন দল। তবে দামিবাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানী জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দামিবার সাথে বুরকিনা ফাসোর সাবেক উপনিবেশকারী দেশ ফ্রান্সের সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। ফলে ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি ফরাসি কোনো ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করছিল বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে দামিবা একটি ফরাসি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা রাজধানীতে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসকে ঘেরাও করে রাখে এবং এক পর্যায়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বিবৃতিতে জান্তা প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন কিসভেনসিদা ফারুক আজরিয়া জনগণকে সব ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুর থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। নতুন জান্তা সরকার ফ্রান্সের বদলে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। এদিকে আফ্রিকার দেশগুলো গত শুক্রবারের এই অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর