আপনি পড়ছেন

আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকালে জাপানের উত্তর অংশের উপর দিয়ে এই পরীক্ষা চালানো হয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ পিয়ংইয়ংয়ের এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

north korea fires missile over japanউত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম জাপানের উপর দিয়ে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পিয়ংইয়ং। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের ভূখণ্ড পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিপস অব স্টাফের প্রধান বলেন, উত্তর কোরিয়ার জাগাং প্রদেশ থেকে ছোঁড়া এ ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া জাগাং প্রদেশ থেকে সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

north korean missile over japanক্ষেপণাস্ত্রের যাত্রাপথ

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি সকাল সাতটা ২২ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ২২ মিনিট পরে এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২,৮০০ মাইল উড়ে জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে বিধ্বস্ত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, পিয়ংইয়ং এ পর্যন্ত যে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, এটি তার মধ্যে সর্বাধিক দূরত্বে আঘাত হেনেছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এ ঘটনায় কয়েকটি এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সেখানে ট্রেন চলাচল কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়। দেশের সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত উস্কানি সহ্য করা যায় না। পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে।

সিউল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের প্রতিরক্ষা বিভাগের সাথে বিষয়টি নিয়ে ফোনালাপ করে উত্তর কোরিয়ার বিপজ্জনক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ব্লিঙ্কেন সিউল ও টোকিওকে আশ্বস্ত করেছেন, তাদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী করতে পারে তা পরিষ্কার নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ রবার্ট কেলি বলেন, অনেকবারই কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এটি কেবল কথার কথাতেই পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, আত্মরক্ষার জন্য তারা একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার তৈরি করছে। গত মাসে পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় কিম জং-উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যতক্ষণ পর্যন্ত তার দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করবে না, সে নাগাদ তারাও পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর