আপনি পড়ছেন

ক্রিকেটের চিরকালীন দুর্ভাগা দলের নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। কখনো নিজের দোষে কখনো বা প্রকৃতির দায়টা গিয়ে বর্তায় তাদের ওপরই। বছরের পর বছর এভাবেই নিজেদের গায়ে চোকার্স অপবাদ লেপ্টে ফেলেছে তারা। প্রকৃতির বিরূপ আচরণ খুব সম্ভবত এই দলটাকেই বেশি ভোগাচ্ছে।

covers were called for with rain falling persistently৩০ বছর আগেও এই সিডনিতেই ‘অপয়া’ বৃষ্টি ভুগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে

এবারের আসরে সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সেই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় তাদের। এতে করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল তাদের জন্য শুরুতেই কঠিন হয়ে পড়ে। পরে বাংলাদেশ ও ভারতকে হারিয়ে লড়াইয়ে থাকে প্রোটিয়ারা।

আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই প্রথম দল হিসেবে শেষ চারের টিকিট কাটতো দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এই ম্যাচেও বৃষ্টি বাদ সাধে। ম্যাচে পাকিস্তানের ১৮৫ রানের জবাব দিতে নেমে ইনিংসের মাঝপথে নামে বৃষ্টি। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। কমে আসে ম্যাচের দৈর্ঘ্য। ১৪ ওভারে তাদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪২। বৃষ্টির আগে নয় ওভারে ৬৯ রান ছিল প্রোটিয়াদের।

নতুন লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলতে পারে নয় উইকেটে ১০৮। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে শেষ দিকে নয় রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারায় তারা। মূলত বৃষ্টির পর তাদের আস্কিং রেটের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বৃষ্টি না হলে ওভার প্রতি তাদের করতো হতো ১০.৫৪ রান। ওভার কমে যাওয়ায় ওভার প্রতি লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪.৬ রান!

মাঝের ওভার কাঁটা না গেলে হয়তো ম্যাচটা জিততেও পারতো টেম্বা বাভুমার দল। দক্ষিণ আফ্রিকার আগের ম্যাচটাই দেখুন। ভারতের বিপক্ষে শুরুতে কি চাপেই না ছিল প্রোটিয়ারা। পরে মিডল ও স্লগ ওভারে রান তুলে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো পারতো। কিন্তু কীভাবে হবে! বৃষ্টি যে পিছু ছাড়ছে না দক্ষিণ আফ্রিকার!

৩০ বছর আগে এই সিডনিতেই বৃষ্টি ভুগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। প্রকৃতির কান্না কেড়ে নিয়েছিল অ্যালান ডোনাল্ডদের মুখের হাসি। সেই ম্যাচে জয়ের খুব কাছেই ছিল প্রোটিয়ারা। বৃষ্টির কারণে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা। ১৯৯২ বিশ্বকাপের (যার অফিসিয়াল নাম বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপ) সেই ম্যাচটা ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

বৃষ্টিভেজা ম্যাচে নির্ধারিত ৪৫ ওভারে ২৫২ রান তোলে ইংল্যান্ড। তাড়ায় ৪২.৫ ওভারে ছয় উকিটে ২৩১ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের প্রয়োজন ছিল ১৩ বলে ২২ রান। কিন্তু বৃষ্টির পর খেলা যখন শুরু হলো তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১ বলে ২২! সিডনির স্কোরবোর্ডের সেই লেখাটা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ক্রিকেটে।

ম্যাচটা হেরে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই সময়ের নিয়ম অনুসারে অমন লক্ষ্যই দাঁড়ায় প্রোটিয়াদের সামনে। তিন দশক আগে ডি/এল পদ্ধতি থাকলে এক বলে লক্ষ্য দাঁড়াত ১২ রান। সেটাও তো অসম্ভব। আসলে প্রকৃতিই চাইছে না প্রোটিয়াদের অনুকূলে থাকতে।

এবারও যে থাকবে সেটার নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য টিকে থাকার লড়াই। ম্যাচে প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে জিতলেই চলবে তাদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সেই ম্যাচেও যদি বৃষ্টি আছে? অপয়া বৃষ্টি যে দক্ষিণ আফ্রিক ৩০ বছর ধরে ভোগাচ্ছে!