আপনি পড়ছেন

প্রত্যাশিত জয় দিয়ে কাতার বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল ফেভারিট ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। সোমবার রাতে ‘এ’ গ্রুপে সাদিও মানেবিহীন সেনেগালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ডাচরা। আর ‘বি' গ্রুপের ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি ইরানকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইংলিশরা।

england celebrating a goal 2022বড় জয়ের নায়ক বুকায়ো সাকাকে ঘিরে ইংল্যান্ডের উল্লাস

দোহায় খলিফা স্টেডিয়ামে আট গোলের ম্যাচে গোলমুখ খুলতেই যা সময় লেগেছে। ঝড় শুরুর আগে যেমন গুমোট পরিবেশ হয় এই আরকি! ‘গিট’ খুলতেই শুরু হয় গোলবৃষ্টি। ৩৫ মিনিটে জুডে বেলিংহামের গোলে শুরু। শেষ হয় দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে তারেমির গোলে।

ম্যাচের ভাগ্য অবশ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে বিরতির আগেই। ৪৩ মিনিটে বুকায়ো সাকা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ইংলিশদের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন রহিম স্টার্লিং। ৬২ মিনিটে ডাবলস পূরণ করেন আর্সেনাল ফরওয়ার্ড সাকা। চার গোল হজমের পর ঘুম ভাঙে ইরানের।

cody gakpo netherlandsগোলের পর উচ্ছ্বসিত নেদারল্যান্ডস ফরওয়ার্ড কোডি গাকপো

৬৫ মিনিটে ইংল্যান্ডকে একটি গোলের শোধ দেন ইরান ফরওয়ার্ড তারেমি। একটু পর গোল উৎসবে যোগ দেন মার্কাস রাশফোর্ড ও জ্যাক গ্রেয়ালিশ। অথচ এমন গোলবন্যার ম্যাচে জালের নাগাল পাননি ইংলিশ অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। যা ইংলিশদের বড় জয়ের একমাত্র খচখচানি।

কেন অবশ্য সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। কিন্তু ইরানের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিতে পারেনি টটেনহাম স্ট্রাইকার। বরং পুরো ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেন তিনি। নেপথ্য কারণ হতে পারে চোটের অস্বস্তি। প্রথমার্ধে চোটে কাতরাতে দেখা যায় কেনকে। যার প্রভাব পড়েছে তার পারফরম্যান্সে।

ইংল্যান্ডের জয়ের সঙ্গী হয়ে গেছে তাদের মহাদেশীয় প্রতিবেশী নেদারল্যান্ডস। তারা অবশ্য সহজে জেতেনি। আফ্রিকান দল সেনেগালের বিপক্ষে জয়ের জন্য বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ডাচদের। একটা পর্যায়ে পয়েন্ট খোয়ানোর আশঙ্কাতেও পড়েছিল লুইস ফন গালের দল।

ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে আটকে রেখেছিল সেনেগাল। এরপরই আফ্রিকানদের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন কোডি গাকপো। পিএসভি আইন্দোফেইন ফরওয়ার্ডের গোলের উৎস ফ্রেঙ্কি ডি জিং। জয়ের জন্য এই গোলটিই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পরিবর্তিত খেলোয়াড় ডেভি ক্লাসেন।

কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ধাক্কা খেয়েছে সেনেগাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মাঠের বাইরে ছিটকে যান দলটির অধিনায়ক ও সেরা খেলোয়াড় সাদিও মানে। তার অনুপস্থিতি প্রথম ম্যাচেই টের পেল আফ্রিকানদের আক্রমণভাগ। তবে ডিফেন্ডাররা যেভাবে নেদারল্যান্ডসকে লম্বা সময় গোলখরায় ভুগিয়েছে সেটার বিশেষণ এক কথায় দুর্দান্ত।