আপনি পড়ছেন

বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিয়ে ইতিহাসের স্মরণীয় এক ঘটনা ঘটাল সৌদি আরব। যার নেপথ্যে আছেন সৌদি কোচ কোচ হার্ভ রেনার্ড।

herve renardসৌদি কোচ কোচ হার্ভ রেনার্ড

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি হয়তো ভেবে নেন দলটা যখন সৌদি আরব তখন ডিমেতালে খেললেই হয়ে যাবে। কিন্তু এমন মনে করাটাই তাদের বিপদ ডেকে আনলো। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদির কাছে ২-১ গোলে হেরে বসলো। অবশ্য ভুলটা পরে টের পান তিনি। আফসোস! সময় গেলে যে আর সাধন হয় না।

দলে তিন বদল একসাথে আনেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এনজো, লিসান্দ্রো ও আলভারেজকে নামান দ্রুত। তাতেই বদলাতে থাকে ম্যাচের দৃশ্য। দারুণভাবে মাথা ঝেড়ে উঠার চেষ্টা আর্জেন্টিনার। একের পর এক আক্রমণ, কিন্তু রক্ষণে পুরো শক্ত দেয়াল। সৌদির ১১ জনই মেসিদের আটকাতে এক হয়। এরপর শুধুই হতাশা, দীর্ঘশ্বাস।

ছোটদেরও মাঝে মধ্যে সম্মান দেখতে হয়। আর্জেন্টিনা বোধহয় এটাই ভুলে গেলো। ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের না নামিয়ে নিজেদের পায়েই কুড়াল মারলো। নিশ্চিত তিনটা পয়েন্ট করলো হাতছাড়া।

যে রোমেরোর ফিটনেস নিয়ে সমস্যা ছিল। তাকে শুরুর একাদশে রাখাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল? এ নিয়ে এরইমধ্যে কথা হচ্ছে। অথচ ম্যানইউতে দুর্দান্ত ফেলে থাকা লিসান্দ্রো নামলেন যখন ম্যাচের চিত্রনাট্য লেখা শেষ। শেষদিকে জয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে, সমতার জন্যই লড়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু আগে ছন্দ হারিয়ে পরে দাঁতে দাঁত লাগিয়ে লড়লে কি হয়।

একে তো অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বারবার গোল বাতিল। এরপর রক্ষণে ফাটল। টানা ৩৬ ম্যাচে অজেয় থাকা আর্জেন্টিনাকে টেনে হিছড়ে যেন মাটিতেই নামালো সৌদি আরব।

পুরো চিত্রনাট্যের ফরম্যাটটা সাজিয়ে দেন ওই রেনার্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হাই-ব্যাকলাইন ব্যবহার করে ৫৪ বছর বয়সী রেনার্ড। অর্থাৎ ডিফেন্স অনেক উঁচুতে ছিল। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এই কৌশল অবলম্বন করা মানে বড় ঝুঁকি নেওয়া। কারণ, রক্ষণচেরা পাস দিতে মেসিরা পটু।

কিন্তু সৌদির রক্ষণভাগ ছিল জমাট, ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল দুর্দান্ত। ফলে বারবার অফসাইডের ফাঁদে পড়ে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে তাদের তিনটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। পাশাপাশি রেনার্ডের বেছে নেওয়া পাল্টা-আক্রমণের কৌশলে গতিময় ফুটবল উপহার দেয় সৌদি আরব। তাতে ধরাশায়ী হয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।