আপনি পড়ছেন

বিশ্বকাপে ফিফার নতুন সংযোজন সেমি অটোমেটেড অফসাইড পদ্ধতি। যার কাছেই হারলো আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে দুই দিনে পাঁচ গোল বাতিল হলো। কেন এবারের বিশ্বকাপে এত বেশি গোল অফসাইডে বাতিল হচ্ছে? এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে সমর্থকদের মাথায়।

offsideঅফসাইড প্রযুক্তি নিয়ে কেন এত আলোচনা?

ফিফা জানিয়েছে, কাতার বিশ্বকাপে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কম দিতে চান তারা। এজন্য সব রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুটবলে বসানো থাকছে চিপ। সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তে তথ্য চলে যাচ্ছে দায়িত্ব থাকা কর্মীর কাছে। বিশ্বকাপের আগে লাইন্সম্যানদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে অফসাইডের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকতে পারেন তারা।

পাশাপাশি নিয়মেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশ্বকাপে কোনও ফুটবলার অফসাইডে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পতাকা তুলছেন না লাইন্সম্যান। তিনি বল নিয়ে কী করছেন সেটা দেখার পরে নিজের সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। অর্থাৎ অফসাইডে থাকার পরে কোনও স্ট্রাইকার গোলের দিকে এগিয়ে গেলেও লাইন্সম্যান পতাকা তুলছেন না। সেখান থেকে গোল হচ্ছে কি না দেখছেন। তার পরে সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। আগে লাইন্সম্যান পতাকা তোলার পরে অনেক গোলমুখী আক্রমণ থমকে যেত। কিন্তু এ বার গোল করার আগে পর্যন্ত স্ট্রাইকার বুঝতে পারছেন না যে তিনি অফসাইডে ছিলেন কি না।

এ ছাড়া রয়েছে ভিএআর (ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি)। সারাক্ষণ বিভিন্ন ক্যামেরা থেকে তারা নজর রাখছেন খেলায়। অফসাইড হলেই রেফারির কাছে খবর চলে যাচ্ছে। লাইন্সম্যান ভুল করলেও রক্ষা নেই। আর্জেন্টিনার একটি গোল ভার প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বাতিল করেছেন রেফারি। এই প্রযুক্তির গেরোয় আটকে যাচ্ছেন ফুটবলাররা। তাই হয়তো এত অফসাইড দেখা যাচ্ছে এ বারের বিশ্বকাপে।

মূলত আর্জেন্টিনা যে ভুলটা করেছে তার প্রধান কারণ ‘আগেভাগেই দৌড়’। বল পায়ে আক্রমণে গিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাঁপানো ফরোয়ার্ডরা সৌদি আরবের পাতা অফসাইড ফাঁদে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ২০ বছর আগের বিশ্বকাপে স্পেন-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ৯ বার অফসাইড হয়েছিলেন স্প্যানিয়ার্ড খেলোয়াড়েরা।