আপনি পড়ছেন

পুরো ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলল কানাডা। মুহুর্মুহু আক্রমণে চাপে রেখে খেলল বেলজিয়ামকে। অথচ ম্যাচের ফলটা কি না গেল তাদের বিপক্ষে! ম্যাচজুড়ে চাপে থাকা বেলজিয়ানরা কোনোরকম স্বস্তির গোল নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। বুধবার রাতে কানাডার বিপক্ষে ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা জিতেছে ১-০ গোলে।

martinez canada deasearved better resultদাপুটে ফুটবল খেলেছে কানাডা

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভাগ্যক্রমে গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। হাফ চান্স কাজে লাগান মিচি বাতশুয়াই। এই গোলের ওপর দাঁড়িয়ে কোনোরকম জয় পেয়েছে বেলজিয়াম। গোলটির আগে ও পরে বেলজিয়ানদের বিপদসীমার ওপর দিয়ে দফায় দফায় ঝড় সামলেছে। ডিফেন্ডাররা ব্যর্থ হয়েছেন কানাডিয়ান ঝড়-সামলাতে।

সব বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করেন গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়া। গতকাল রাতে গোলপোস্টের নিচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা অতিমানবীয় পারফর্ম না করলে পয়েন্ট হারাতো পারতো বেলজিয়াম। ম্যাচ শুরুর ১১ মিনিটে আফফোনসো ডেভিসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন তিনি। কেবল পেনাল্টিই নয়, আরও কয়েকবার কানাডিয়ানদের হতাশ করেন কোর্তোয়া।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এমন জয়ে খুশি হতে পারেননি বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। বরং জয়ের পরও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছেন তিনি। স্প্যানিশ কোচ মানছেন, তার দল নয়, জয়টা কানাডার প্রাপ্য ছিল। অন্তত এক পয়েন্টের তো দাবিদার ছিলই। ম্যাচ শেষে সেই হতাশা চেপে রাখেননি মার্টিনেজ।

ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে বেলজিয়ানদের স্প্যানিশ কোচ যথার্থই বলেছেন, ‘তারা যেভাবে খেলেছে তাতে কানাডা আমাদের চেয়ে ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল। এটা কেবল একটা জয়। আমাদের কাছে এরচেয়ে বেশি কিছু নয়। অবশ্যই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে; আরও ভালো করতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আপনাকে আরও উন্নতি করতে হবে।’

ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পরও বেলজিয়াম জিতেছে সৌভাগ্যক্রমে। দলের জয় অবাক করেছে মার্টিনেজকেও, ‘এভাবে খেলার পরও আপনি যখন জিতে যাবেন, সেটা অবিশ্বাস্য একটা সুযোগ।’ আগামী রোববার গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকান দল মরক্কোর মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। ওই ম্যাচে শিষ্যদের আরও ভালো করার তাগিদ দিয়েছেন দলটির কোচ।

মার্টিনেজ ছাত্রদের সতর্ক বার্তা দিয়ে রাখলেন, ‘আমরা আমাদের স্বাভাবিক প্রতিভা এবং দক্ষতার জোরে ম্যাচটা জিতিনি। আপনি কখনোই বিশ্বকাপে জিততে পারবেন না যদি আলাদাকিছু না করেন। সত্যি বলতে ম্যাচের ফল আমাদের অনুকূলে আসাটা বিস্ময়কর ছিল। কানাডার আক্রমণ বিভাগের প্রশংসা করতেই হবে। (থিবাউট) কোর্তোয়া না থাকলে আমাদের বিপদে পড়তে হতো।’