আপনি পড়ছেন

কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বই কম-বেশি পরীক্ষা নিচ্ছে ‘বড়’ দলগুলোর। প্রথম ম্যাচ হেরে মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা ও জার্মানি। শিরোপা প্রত্যাশি ব্রাজিলের জয় নিয়েও তাই কিছুটা সংশয়ে ছিল একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে সেই আশঙ্কাটা অবশ্য উঁকিও দিয়েছিল। ম্যাচের বয়স এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেকাওরা।

world cup brazil 2022জোড়া গোল করে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক রিচার্লিসন

কিন্ত ঠিক সময়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। বৃহস্পতিবার রাতে রিচার্লিসনের জোড়া গোলের ওপর দাঁড়িয়ে স্বপ্নের ‘হেক্সা’ মিশনে দুর্দান্ত এক সূচনা করল ব্রাজিল; ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে সার্বিয়াকে হারিয়ে দিলো ২-০ গোলে। অবধারিতভাবেই জয়ের নায়ক রিচার্লিসন। ম্যাচ শেষে হলুদ শিবিরের উদযাপনের মধ্যমণি হয়ে থাকলেন এই ফরওয়ার্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকেন টিটের শিষ্যরা। কিন্তু গোছানো ফুটবল এবং মুহুর্মুহু আক্রমণ শানিয়েও গোল পাচ্ছিল না ব্রাজিল। সুযোগ হাতছাড়া করেছেন নেইমার জুনিয়র, রির্চার্লিসন ও রাফিনহা। গোল না পাওয়ার হতাশা নিয়ে বিরতিতে যান তারা। এই অর্ধে ব্রাজিলের তোপ সামলাতেই ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে সার্বিয়াকে।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে আরও গতিশীল হয়ে ওঠে ব্রাজিল। এর সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬২ মিনিট পর্যন্ত। সার্বিয়ার জালে বল পাঠিয়ে সেলেকাওদের লিড দেন রিচার্লিসন। ১১ মিনিটের ব্যবধানে আরও একবার উৎসবের ঢেউ তোলেন তিনি। রিচার্লিসনের দ্বিতীয় গোলটা হলো দুর্দান্ত। বাঁ উইং দিয়ে আসা ভিনিচিয়াস জুনিয়রে ক্রসটা নামিয়ে বাই-সাইকেল কিক! রকেট গতিতে আগুনের গোলাটা আশ্রয় নেয় সার্বিয়ার জালে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও অবশ্য গ্লাভসে বল ছোঁয়াতে পারেননি গোলরক্ষক।

অ্যাক্রোবেটিক শটে করা রিচার্লিসনের গোলটা অনেক দিন মনে থাকার কথা ফুটবলপ্রেমীদের। এবং অবধারিতভাবেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলের লড়াইয়ে চলে আসবে তার নিশানাভেদটা। বুলেট গতিতে আসা বলটা ঠেকাতে পারেননি সার্বিয়া গোলরক্ষক। তবে এ যাত্রায় ব্যর্থ হলেও ম্যাচজুড়ে ব্রাজিল ফরওয়ার্ডদের নিরাশ করেছেন তিনি। অন্যথায় অন্তত হালি গোল পেতে পারতো সেলেকাওরা। ক্যাসেমিরো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর শট পোস্টে প্রতিহত না হলে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধানও বাড়তে পারতো।

এদিন গোলের উদ্দেশ্যে ২২টি শট নিয়েছে ব্রাজিল। যার আটটিই ছিল লক্ষ্যে। ফল এসেছে দুটিতে। বিপরীতে সার্বিয়ার পাঁচটি শটের একটিও ছিল না গোলমুখে। এই তথ্যটিই বলে দিচ্ছে ম্যাচে কতটা দাপুটে ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। গোল পেতেই যা একটু সময় লাগছিল। সময় মতো ঠিকই লক্ষ্যপূরণ হয় তাদের। হট ফেভারিটের তকমাটা তো আর সেলেকাওদের শরীরে এমনি এমনি লেপ্টে দেওয়া হয়নি। নেইমার-সিলভারা শুরু করলেন ফেভারিটের মতোই।

তবে জিতলেও ব্রাজিল ভক্তদের জন্য অস্বস্তির খবর আছে। শেষ দিকে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়ে গেছেন পিএসজি সুপারস্টার। নেইমারের চোটের গভীরতা এখনো নির্ণয় হয়নি। তবে ম্যাচ শেষে ডাগ আউটে তাকে যেমন নির্ভার দেখা গেল তাতে মনে হতে পারে, নেইমারের কিছুই হয়নি!

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর