আপনি পড়ছেন

২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স। ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানি। চারটি টুর্নামেন্ট এবং দলগুলোর সঙ্গে পরিচিত দুটো মিল আছে। আসরগুলোতে প্রতিটি দলই মিশন শুরু করেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। সবকটি দলই বিদায় নিয়েছে গ্রুপপর্ব থেকে!

france football team 2022 qatarসেই ফ্রান্সই ভাঙল ইতিহাসের দুষ্টচক্র

কাতার বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আবারও দলটি ইতিহাসের দুষ্টচক্রে আটকে যায় কি না তা নিয়ে সংশয়ের শেষ ছিল না। এর নেপথ্যে কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ফ্রান্সের ওপর ছিল প্রত্যাশার বাড়তি চাপ। সেটা অবশ্য নিতে রাজি ছিল ফ্রান্স। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলকে পেয়ে বসল চোট।

একজন দুজন নয়, চোটের মিছিলে যোগ দেন সাতজন ফুটবলার। তালিকায় তিনটি বড় নামও ছিল। কিন্তু এনগোলো কান্তে, পল পগবা ও করিম বেনজেমার অভাবটা বুঝতেই দেয়নি দিদিয়ের দেশামের দল। দাপুটে পারফরম্যান্সে সবার আগে কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছেন এমবাপ্পে-গ্রিজম্যান-লরিসরা।

‘ডি’ গ্রপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ গোলে হারায় ফ্রান্স। শনিবার রাতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ২-১ গোলে জেতে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে। পরপর দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নক আউট পর্বে উঠে গেল ফ্রান্স। তাদের পয়েন্ট ছয়। তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ডেনমার্ক ও তিউনিশিয়ার সংগ্রহ সমান এক পয়েন্ট।

এবারের সাফল্যে ফ্রান্স বেরিয়ে এসেছে ইতিহাসের বৃত্ত থেকে। যে চক্রে তারা নিজেরাও একবার আটকা পড়েছিল। ২০০২ সালে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। পরের চার আসরের তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন দল ব্যর্থ হয়েছে নক আউট পর্বে উঠতে। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ব্রাজিল।

২০০৬ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পথচলা থেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। পরের তিন আসরের প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে ইতালি, স্পেন ও জার্মানি। ফ্রান্সের জন্য এবারের বিশ্বকাপটা ছিল ব্রাজিলের সঙ্গী হওয়ার। অবশেষে সফল হলো তারা। এতে করে নিজেদের শাপমোচন তো হয়েছেই, এই শতাব্দীতে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নক আউট পর্বে উঠল ফরাসিরা। যে ফ্রান্সবধে দুষ্টচক্র দানা বেঁধেছিল সেই ফ্রান্সই এবার মুক্তি দিলো চ্যাম্পিয়নদের।