আপনি পড়ছেন

কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই মহাঅঘটনের শিকার। খুব স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে জেগেছিল সংশয়। কার্যত কেটে গেল তা। ভয় কাটিয়ে জয়ে ফিরেছেন লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোং। শনিবার রাতে ‘সি’ গ্রুপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মেক্সিকোকে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

argentina celebrating a goal at qatar wcমেক্সিকোর জালে বল জড়ানোর পর আর্জেন্টিনার উল্রাস

লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে উত্তর আমেরিকার জায়ান্টদের বিপক্ষে আর্জেন্টাইনরা জিতল ২-০ গোলে। গোল দুটি করেছেন অধিনায়ক মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ। দুর্দান্ত এই জয়ে নক আউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডকে হারাতে পারলেই নক আউট পর্বে উঠে যাবে তারা।

আর্জেন্টিনার ওপর ভয়টা জেঁকে বসেছিল প্রথমার্ধ শেষে। এ সময়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেও জালের নাগাল পাননি মেসিরা। গোলমুখ খুলতে পারেনি মেক্সিকোও। সত্যি বলতে ম্যাচের প্রথম ভাগটা কেটেছে প্রায় ঘুমপাড়ানি ফুটবলে। উল্লেখযোগ্য বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। গোলপোস্টের নিচে অলস সময় কাটাতে হয়েছে দুই গোলরক্ষককে।

টান ৩৬ ম্যাচ অজেয় থাকার গৌরব নিয়ে কাতার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু টুর্নামেন্টে গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই মেসিদের গা থেকে অজেয় তকমাটা তুলে ফেলে মধ্যপাচ্যের দল সৌদি আরব। যা বড়সড় ধাক্কা হয়েই আসে আর্জেন্টিনার স্বপ্নযাত্রায়। মেসিক্সেকো ম্যাচটা তাই মেসিদের জন্য হয়ে উঠেছিল ‘এসিড টেস্ট’। তাতে পাস করলেন মেসিরা।

বড় পরীক্ষা ছিল মেক্সিকো অধিনায়ক ও গোলরক্ষক গুলের্মো ওচোয়ার জন্যও। ম্যাচের এক ঘণ্টার বেশি সময় দুইবারের বিশ্বসেরাদের আটকে রেখেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মহাপ্রাচীর ভাঙেন মেসি। ম্যাচের বয়স তখন ৬৪ মিনিট। মেসি জাদুতে ভেঙে যায় মেক্সিকানদের গড়ে তোলা প্রতিরোধের দেয়াল। পিএসজি তারকা বৃথা যেতে দেননি অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার জোগানটা।

গোলপোস্টের নিচে চাপে থাকতে হয়েছে আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী এমিলিনিয়ানো মার্টিনেজকেও। মেক্সিকো মিডফিল্ডার ভেগার ঘূর্ণি ফ্রি-কিকটা তিনি না আটকালে বড্ড বিপদ হতে পারতো দলের। ঘুরে যেতে পারতো ম্যাচের মোড়। ওই মুহূর্তটাই আর্জেন্টিনার জন্য স্নায়ুচাপের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারল আর্জেন্টিনা।

ধেয়ে আসা সব সমালোচনা ও ‘টক্সিড’ পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করলেন সেই মেসিই। যার পায়ে ভর করছে অর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা স্বপ্ন। মেক্সিকোর জাল কাঁপিয়ে পিএসজি তারকা বুঝিয়ে দিলেন, ফিকে হয়ে যায়নি স্বপ্ন, সেটা আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠছে। দলের জয়ের জন্য মেসির ওই জাদুকরি মুহূর্তটাই যথেষ্ট ছিল।

কিন্তু তাতে হয়তো তৃপ্তি আসতো না। অতৃপ্তি কেটে গেছে ৮৭ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত এক গোলে। ডি-বক্সের বাঁ পাশ থেকে ডান পায়ের ঘূর্ণি শটে আর্জেন্টাইন তরুণ খুঁজে নেন স্বপ্নের ঠিকানা। এই গোলের উৎস ছিলেন ওই মেসিই। আরও একবার কেঁপে ওঠে দোহা। কাতারের রাজধানী তো বটেই, গোটা বিশ্বেই তো একটা কম্পন হয়ে গেল শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর