আপনি পড়ছেন

রবার্তো কার্লোস, কাফু, রোনালদো, কাকার মতো ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিরা বসেছিলেন দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪-এর গ্যালারিতে। উত্তরসূরিদের গোলের  অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু সোনার হরিণ হয়ে ওঠা গোলটার নাগাল পাচ্ছিল না নেইমার জুনিয়রবিহীন ব্রাজিল। অবশেষে এলো স্বস্তির গোল।

brazil switzerland 2022ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলের পর ব্রাজিলের উল্লাস

উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত গোলে সেলেকাওরা তুলে নিল দারুণ জয়। তৃতীয়বারের চেষ্টায় ইউরোপিয়ান শক্তি সুইজারল্যান্ডকে হারাতে পারল ল্যাটিন আমেরিকান জায়ান্টরা। ব্রাজিল সুইস ‘গিট’ খুলেছে ১-০ ব্যবধানে জিতে। বিশ্বকাপে আগের দুবার ড্র করেছিল দল দুটি (১৯৫০ ও ২০১৮)।

পরপর দুই জয়ে ‘জি’ গ্রুপ থেকে সবার আগে নক আউট পর্বের টিকিট কাটল শিরোপা প্রত্যাশি ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল সেলেকাওরা। সেদিন জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়কবনে গিয়েছিলেন রিচার্লিসন। অথচ আজ কয়েকটা সুযোগ পেয়েও জালের নাগালই পেলেন না তিনি! বরং ৬৪ মিনিটে ভিনিচিয়াস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলটা বাতিল হয়ে গেছে রিচার্লিসন অফসাইডের ফাঁদে পা দেওয়ায়।

ব্রাজিল জিততে পারতো বড় ব্যবধানে। কিন্তু ম্যাচজুড়ে হতাশ করেছেন রিচার্লিসন। গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন ভিনিচিয়াস, রদ্রিগোর মতো তারকা ফুটবলাররাও। তাদের আর দোষ দিয়েই বা কী লাভ। সুইজার‌ল্যান্ডের গোলপোস্টের নিচে যে অতিমানব হয়ে উঠেছিলেন ইয়ান সোমার! সেই তুলনায় ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে বড় কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি।

ম্যাচের আগেই জোড়া দুঃসংবাদ ছিল ব্রাজিল শিবিরে। গোড়ালির চোট নিয়ে গ্রুপপর্বের বাকি দুই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন দলের সেরা তারকা নেইমার। চোট নিয়ে দর্শক সারিতে চলে গেছেন ডিফেন্ডার ড্যানিলোও। ড্যানিলের শূন্যতা অবশ্য বোঝা যায়নি, তবে কিছুটা হলেও নেইমারের অনুপস্থিতি টের পেয়েছে ব্রাজিল। তাতে অবশ্য জয় আটকায়নি।

এবারের বিশ্বকাপে হট ফেভারিট ব্রাজিল। তাদের শুরুটাও হয়েছিল ফেভারিটের মতো। দ্বিতীয় ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিল কেমন করে সেটা দেখার ছিল। সেই পরীক্ষায় উতরে গেছে সেলেকাওরা। দলের জয়ে খচখচানি বলতে ব্যবধান কম হওয়াটা। সেটা বাড়তে পারতো যদি ভিনিচিয়াসের গোলটা অফসাইডের কারণে বাতিল না হতো।

ম্যাচের বয়স এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর গোল করেন ভিনিচিয়াস। সেটা অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। ম্যাচটা গোলশূন্য ড্রয়ের আশঙ্কা জাগায়। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। রদ্রিগোর কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে জালে বল জড়ান এই তারকা। ব্রাজিলের জার্সিতে এটা তার ষষ্ঠ গোল; তবে বিশ্বকাপে প্রথম।

ক্যাসেমিরোর ঘূর্ণি শটটা সুইজারল্যান্ড গোলরক্ষক সোমার শুধুই চেয়ে দেখলেন। অবশ্য কিছু করারও ছিল না তার। যা করার সুইস শেষ প্রহরী আগেই তা করে দেখিয়েছেন। ম্যাচজুড়ে তিনি নিরাশ করেছেন ব্রাজিলিয়ানদের। ভিনিচিয়াসের দারুণ দুটি শট সোমার ঠেকিয়ে দিয়েছেন। রদ্রিগো, জেসুস, রিচার্লিসনকেও গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

শেষজন অবশ্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু পুরো ম্যাচে যথাযথ পজিশনে দেখা যায়নি রিচার্লিসনকে। টটেনহাম হটস্পার স্ট্রাইকারকে উইং পজিশনে বেশির ভাগ সময় দেখা গেছে। যার খেসারাত হিসেবে দুটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি। দুবারই ভিনির পাসে বল ছোঁয়াতে পারেননি রিচার্লিসন! প্লেসিং এবং টাইমিং ঠিক না থাকলে যা হয় আরকি!

গোল করতে পারেননি অন্য ফরওয়ার্ডরাও। সবমিলিয়ে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা ভালোই ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর দারুণ এক ভলি থেকে এসেছে কাঙ্খিত গোল। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেল ব্রাজিল। দুই ম্যচে ছয় পয়েন্ট তাদের। তবে ম্যাচজুড়ে রক্ষণাত্মক খেলা সুইজারল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ম্যাচে সার্বিয়াকে হারাতে পারলে নক আউট পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গী হবে তারাও।

কাতার বিশ্বকাপে সবার আগে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দ্বিতীয় দল হিসেবে ব্রাজিল উঠেছে নক আউট পর্বে। গ্রুপপর্বে ঘানার বিপক্ষে সেলেকাওদের শেষ ম্যাচটা এখন প্রায় নিয়মরক্ষার। যেটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ্য হতে পারে। আরও একটি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়া খেলার অভ্যাসটা তৈরি করার।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর