আপনি পড়ছেন

বানরের দেহে সর্বপ্রথম শনাক্ত হওয়ায় রোগের নাম হয়েছিল মাংকিপক্স। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রাণী, এমনকি মানবদেহেও রোগটি ধরা পড়ে। কিন্তু নাম রয়ে গেছে মাংকিপক্স। রোগের নামের কারণে এতে আক্রান্তরা অন্যদের তিরস্কার, টিপ্পনির শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় মাংকিপক্সের নাম পাল্টে এমপক্স করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর এএফপি। 

monkeypox twsdএখন থেকে মাংকিপক্সের পরিবর্তে এমপক্স নাম ব্যবহার করবে ডব্লিউএইচও

দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা মহাদেশে বিস্তৃত হলেও গত মে মাস থেকে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে মাংকিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হতে থাকে। বেশকিছু কেসস্টাডি থেকে জানা যায়, সমকামী পুরুষদের মধ্যে রোগটির বিস্তৃতি ঘটেছে বেশি। এ কারণে আক্রান্তদের কেউ কেউ নানারকম কটুকাটব্যের শিকার হন।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও বলেছে, চলতি বছর আরও আগের দিকে মাংকিপক্সের প্রকোপ বাড়তে থাকলে অনলাইনে ও অন্যান্য সেটিংয়ে এবং কিছু সমাজেও বর্ণবাদী ও কূৎসামূলক ভাষার প্রয়োগের কথা ডব্লিউএইচওর নজরে আসে। এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগও পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পর ডব্লিউএইচও মাংকিপক্সের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সমার্থক শব্দ হিসেবে এমপক্স প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী এক বছর দুটি নামই চলবে এবং এ সময়কালে মাংকিপক্স নামটি ক্রমে বাদ দেওয়া হবে।

১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের পরীক্ষাগারে রাখা বানরের দেহে প্রথম মাংকিপক্স শনাক্ত হয়। মানবদেহে রোগটি প্রথম ধরা পড়ে ১৯৭০ সালে, কঙ্গোতে। এরপর পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশে মাংকিপক্স সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা মহাদেশে রোগটির সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকায় মাংকিপক্স আক্রান্তদের ‘আফ্রিকান রোগাক্রান্ত’ বলে কটুক্তির ঘটনাও ঘটেছে।

চলতি বছরের মে মাস থেকে ইউরোপ, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় মাংকিপক্স সংক্রমণের খবর আসতে থাকে। কোভিড-১৯ এর মতো মাংকিপক্স আন্তর্জাতিক পরিসরে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে জানিয়ে ডব্লিউএইচও গত ২৪ জুলাই বৈশি^ক সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। বিগত কয়েক মাসে ১১০টি দেশে মোট ৮১ হাজার ১০৭ জন মাংকিপক্সে আক্রান্ত হবার কথা সংস্থাটির রেকর্ডে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

ডব্লিউএইচওর কেস ড্যাশবোর্ডের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত মাংকিপক্সে আক্রান্তদের ৯৭ শতাংশই পুরুষ। আক্রান্তদের গড় বয়স ৩৪ বছর। আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশই সমকামে জড়িয়েছেন এমন পুরুষ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যেসব দেশে, তার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র (২৯,০০১), ব্রাজিল (৯,৯০৫), স্পেন (৭,৪০৫), ফ্রান্স (৪,১০৭), কলম্বিয়া (৩,৮০৩), ব্রিটেন (৩,৭২০), জার্মানি (৩,৬৭২), পেরু (৩,৪৪৪), মেক্সিকো (৩,২৯২) ও কানাডা (১,৪৪৯)।

২০১৫ সালে ডব্লিউএইচও গৃহীত রোগের নামরকণ নির্দেশনা অনুযায়ী, অকারণ নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে রোগের নাম সংক্ষিপ্ত করা বাঞ্চনীয়। সে অনুযায়ী গত আগস্ট মাসে সংস্থাটি মাংকিপক্সের ভাইরাসের নতুন নাম খুঁজছে জানিয়ে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও জনসাধারণের পরামর্শ আহ্বান করে।

সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচও এখন থেকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এমপক্স নামটি ব্যবহার করবে এবং অন্যদেরও এ পরামর্শ মেনে চলতে উৎসাহিত করছে, যাতে বিদ্যমান নামের কোনো নেতিবাচকতা থাকলে তা হ্রাস পায়। এদিকে, ডব্লিউএইচওর ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে মাংকিপক্সের পরিবর্তে সিডিসি এমপক্স নাম ব্যবহার করবে।