আপনি পড়ছেন

সমীকরণটা সহজ ছিল। ড্র করলেই চলতো ইরানের। কিন্তু মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে হেরেই বসল এশিয়ান জায়ান্টরা। মঙ্গলবার রাতে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গেছে ইরান। এই হারে নক আউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল তাদের।

usa beat iran to secure last 16 spot 01ইরানকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

'বি' গ্রুপের তিন নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো ইরানের। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট তাদের। ইরানের একমাত্র জয়টি ছিল ওয়েলসের বিপক্ষে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন গ্যারেথ বেলরাও।

দুই জয় ও এক ড্র‍য়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখল ইংল্যান্ড। এক জয় ও দুই ড্রয়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ দল হিসেবে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিলো যুক্তরাষ্ট্র। তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে তলানিতেই থাকল ওয়েলস।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটা অবশ্য মাঠের বাইরের ইস্যুতেও আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। সেটা কয়েক মাস আগে হওয়া দোহার ড্র থেকেই। আসলে কয়েক দশক ধরে চলা দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপের কারণেই ম্যাচটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

কিন্তু মাঠের লড়াই যতটা বারুদেঠাসা হবে অনুমান করা হচ্ছিল, বাস্তবতা ছিল এর ঠিক বিপরীত মেরুতে। দুই অর্ধেই ম্যাড়মেড়ে লড়াই হয়েছে। প্রথমার্ধে ইরান খেলেছে রক্ষণাত্মক মেজাজে, কারণ তাদের ড্র করলেই চলতো। যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের বিকল্প ছিল না, তাই শুরু থেকেই সর্বস্ব নিয়ে এশিয়ানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা।

usa beat iran to secure last 16 spotইরানকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

এর ফল পেতে অবশ্য একটু সময় লেগেছে। ৩৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সার্জিনো ডেস্টের কাছ থেকে বল পেয়ে ইরানের জালে বল জড়ান চেলসি স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। গোলটার আর শোধ দিতে পারেনি ইরান। পুলিসিচের ওই গোলের ওপর দাঁড়িয়েই নক আউটে উঠে যায় যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ 'এ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস।

দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটা ঠিক উল্টো। খেলার ধরন এক হলেও দুই দল স্রেফ কৌশল পাল্টায়। ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গোল শোধে মরিয়া ইরান আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের আক্রমণগুলো সেভাবে দানা বেঁধে উঠতে পারেনি। পুরো ম্যাচে কেবল একটি শটই লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে তারা। সেটাও ম্যাচের শেষ দিকে।

গোলের জন্য মোট পাঁচটি শট নেয় ইরান। অন্যদিকে ১২টি শট নেয় গ্রেগ বারহেল্টারের দল। যার পাঁচটিই ছিল গোল মুখে। কিন্তু আক্রমণ অনুপাতে সেভাবে গোল পায়নি তারা। এনিয়ে আক্ষেপও থাকার কথা নয় যুক্তরাষ্ট্রের৷ বরং দ্বিতীয়ার্ধে নেতিবাচক ফুটবলই খেলা শুরু করে তারা।

ইরানের আক্রমণ ও গোল ঠেকাতে ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে লম্বা সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ৫-৪-১ ছকে খেলান বারহেল্টার! হোক না, নেতিবাচক কৌশল, তাতে কী, ফল তো মিলেছে! লক্ষ্য তো পূরণ হয়েছে! সমালোচনায় কিইবা আসে যায়।