আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় ভাল নেই রাশিয়া। শিল্প কাঁচামাল সংকটে পড়েছে দেশটি। এজন্য বিভিন্ন পণ্যের জন্য ভারতের কাছে ধরনা দিচ্ছে রাশিয়া। সম্প্রতি ভারতকে ৫০০টি পণ্যের তালিকা দিয়েছে রাশিয়া। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে- গাড়ি, বিমান এবং ট্রেনের যন্ত্রাংশসহ নানা পণ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানা চাপের মধ্যে রয়েছে। রয়টার্স, ডব্লিউএ টুডের খবর।

modi putinনরেন্দ্র মোদি ও পুতিন

এদিকে তালিকার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে তালিকাটি রয়টার্সের হাতে এসেছে। তালিকায় আমদানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কতগুলো আইটেম আমদানি হবে কিংবা কবে নাগাদ আমদানি করা হবে, এ বিষয়গুলো অস্পষ্ট। তবে ভারতীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত ভারত। রাশিয়ার সাথে তারা বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী।

মস্কোর একটি সূত্র জানিয়েছে, বড় কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং সরঞ্জামের তালিকা সরবরাহ করতে বলেছে রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে মস্কো আরও আলোচনা করতে চায়। তবে কেবল ভারত থেকে প্রয়োজন পূরণ করা হবে তা নয়। ভারত যেহেতু কোয়াড জোটের সদস্য, সেক্ষেত্রে কোয়াডের অন্য সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়া কেমন প্রতিক্রিয়া জানায় সে ব্যাপারেও প্রস্তুত রয়েছে মস্কো।

গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, রাশিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অর্থপ্রদানের জন্য সুইফটের অনুকরণে ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করছে ভারত। তবে ভারতীয় ঋণদাতারা রাশিয়ার সাথে সরাসরি রুপিতে বাণিজ্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় জড়াতে চাচ্ছে না।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ৭ নভেম্বর রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেন। তখন জয়শঙ্কর বলেছিলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতের উচিত রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানো। মোদি সরকার ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি পশ্চিমাদের পক্ষে যোগ দেয়নি। আবার মস্কোর খোলাখুলি সমালোচনাও বন্ধ করেনি। রাশিয়ান তেল কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এতে মস্কো কিছুটা হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে।