আপনি পড়ছেন

স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ আর্জেন্টিনা-পোল্যান্ড মহারণ। লুসাইল স্টেডিয়ামে লড়াই মেক্সিকো বনাম সৌদি আরবের। দুটি ম্যাচই একের অন্যের সঙ্গে ভালোভাবেই জড়িয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত হেরেও আর্জেন্টিনার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নক আউট পর্বে চলে গেল পোল্যান্ড। আর জিতেও কাতার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল মেক্সিকো।

mexico defeated saudi arabia despite ruled out from world cupসাত বিশ্বকাপ পর মেক্সিকোর এমন বিদায়

আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু স্বপ্নের একটা ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে পরপর দুই ম্যাচ হারল মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। পোল্যান্ডের পর মেক্সিকোর বিপক্ষেও হেরেছে তারা। বুধবার রাতে মেক্সিকানরা জিতেছে ২-১ গোলে। সৌদির বিপক্ষে গোলটা হজম না করলেও অবশ্য বাঁচা যেত না।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পোল্যান্ড ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, মেক্সিকো ম্যাচ তখন ৯৪ মিনিটে দাঁড়িয়ে। ওই সময় মেক্সিকোরও লিড ছিল ২-০ গোলে। শেষ ষোলোতে যেতে হলে আরও এক গোল দরকার ছিল উত্তর আমেরিকান জায়ান্টদের। কারণ সবকিছু সমান থাকলেও ‘ফিফা ফেয়ার প্লে রুলসে‘র হিসেবে অনুযায়ী কম কার্ড দেখার সুবিধাটা পেত পোল্যান্ড।

শেষ পর্যন্ত অমন জটিলতায় যেতে হয়নি। মেক্সিকো তৃতীয় গোলের দেখা তো পায়ইনি, বরং পরের মিনিটে তারা হজম করে গোল। তাতে শেষ হয়ে ক্ষীণ সম্ভাবনাটাও। সৌদির হয়ে সান্ত্বনার গোলটি করেন আল-দোসারি। মেক্সিকোর দুটি গোলও হয়েছিল এই অর্ধেই। ৪৭ মিনিটে হেনেরি মার্টিনের গোলে লিড; পাঁচ মিনিটের মধ্যে লুইস চাভেজের ৩০ গজি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।

বিশ্বকাপে টানা সাত আসরের শেষ ষোলোতে খেলেছে মেক্সিকো। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, প্রতিবারই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। এবার সেই বৃত্ত ভাঙার চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের। কিন্তু এ যাত্রায় নক আউট পর্বের টিকিই কাটা হলো না তাদের। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলো মেক্সিকো। তবে বলা বাহুল্য, ১৯৯০ বিশ্বকাপে মেক্সিকো অংশ নিতে পারেনি নিষিদ্ধ থাকায়। আর ১৯৮২ বিশ্বকাপে বাছাইপর্বেই ঝরে যায় তারা।

ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হলো পোল্যান্ড। তাদের সমান পয়েন্ট মেক্সিকোরও। কিন্তু শেষ ম্যাচে জিতলেও গোলগড়ে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হলো উত্তর আমেরিকার জায়ান্টদের। তিন পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে শেষ হলো সৌদি আরবের বিশ্বকাপ।