আপনি পড়ছেন

অস্ট্রেলিয়ায় রাত তখন ৩টা বেজে ১৮ মিনিট। ঠিক ওই সময়ই কেঁপে উঠল দেশটি। নিজেদের দেশ তো বটেই ম্যাথু লেকি কাঁপিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকেই। ডেনমার্কের জালে বল জড়িয়ে তারা যে উদযাপনটা করেছেন তাতে মনে পারে কোনো শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। না, কোনো ট্রফি জেতেনি ক্যাঙ্গারুর দেশটি। একটা ম্যাচ জিতেছে। সোমবার রাতে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে তাদের জয়টি ছিল ১-০ গোলে।

australiaঅথচ জনপ্রিয়তায় অস্ট্রেলিয়ায় ফুটবলের অবস্থান পঞ্চম

তবু অস্ট্রেলিয়ানদের এমন উৎসবের কারণ বিশ্বকাপে পাওয়া দারুণ একটা জয়। টুর্নামেন্টে তো আগেও জিতেছে তারা, তাহলে এমন বুনো উদযাপন হলো কেন ম্যাচ শেষে? আসলে এই জয়টার মাহাত্ম্যটা একটু অন্যরকমই। জায়ান্ট কোনো দলকে হারিয়ে যখন সাফল্য ছিনিয়ে আনা যায় তখন সেটার স্বাদ একটু অন্যরকমই হয়।

অস্ট্রেলিয়া-ডেনমার্ক ম্যাচে গোল হয়েছে স্রেফ একটা। যেখানে মাটি কামড়ানো শটে ডেনিশ গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেলকে পরাস্ত করেন লেকি। দোহা তো বটেই, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে শুরু হয় উল্লাস। যা পরে পরে রূপ নেয় উৎসবে। তাদের এই উৎসব দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ওঠার।

অস্ট্রেলিয়া শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দুনিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও না পারতে মাথা ঘামায় না তারা। ক্রীড়াঙ্গনে দেশের সাফল্য নিয়েও খুব বেশি মাতামাতি নেই তাদের। সেটির বড় একটি উদাহরণ- গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অজিরা যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে সেটা অনেক অস্ট্রেলিয়ানই টের পেয়েছিলেন পরদিন!

আসলে ক্রিকেটের ফাইনালের সময় সিংহভাগ অস্ট্রেলিয়ানই ঘুমে ছিলেন। কিন্তু খেলাটা বিশ্বকাপ ফুটবলে বলেই বুধবার রাতটা নির্ঘুম কাটিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির মেলবোর্নে, ক্যানবেরা, সিডনি, পার্থের মতো অঞ্চলগুলোতে রাতভর উৎসব চলেছে। বর্ণিল আতশবাজি, আগুনের ফুল্কি, রঙের ছড়াছড়ি ছিল দেশটিতে। সবশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপে এমন উদযাপন দেখা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে।

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য এই ধারার দেশ নয়। জনপ্রিয়তায় অস্ট্রেলিয়ায় ফুটবলের অবস্থান পঞ্চম! রাগবি, বাস্কেটবল এসব খেলাই শীর্ষে আছে। কিন্তু এসব খেলার সাফল্যও অস্ট্রেলিয়ানদের এতোটা দোলাতে পারে না। অথচ এবার ফুটবলের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেন তারা। এর কারণটা বোধহয় বৈশ্বিক রোমাঞ্চ।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এবারের সাফল্যের নেপথ্য নায়ক গ্রাহাম আরনল্ড। ১৬ বছর আগের দলটির সাফল্যেও ছিলেন তিনি। ওই সময় প্রধান কোচ গাস হিডিঙ্কের সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই আরনল্ডই এবার প্রধান কোচের ভূমিকায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এমন ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব অবশ্য শিষ্যদেরকেই দিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। স্বপ্নটাও তাই বড়। প্রিয় কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যাঙ্গারুর দেশটি মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। ল্যাটিন আমেরিকান জায়ান্টদের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে অস্ট্রেলিয়ানরা। তা দেখতে বাধা নেই। এমনকি অমূলকও নয়। এবারের বিশ্বকাপ যে অঘটনের আসর!

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর