আপনি পড়ছেন

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের এক লাখের বেশি সৈন্য এবং ২০ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। যুদ্ধে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি ইউরো। ইউরোপিয়ান কমিশনের (ইসি) প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন। একই বক্তৃতায় তিনি রাশিয়ার বিচারের জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ইসি প্রধানের টুইটার অ্যাকাউন্ট ও ইউরোপিয়ান কমিশনের ওয়েবসাইটে বক্তৃতাটি আপলোড করার কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে হতাহতের সংখ্যার অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। খবর নিউ ভয়েস অব ইউক্রেন।

eeu president ursula von der leyenরাশিয়ার বিচারের জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট

উরসুলা ফন ডার লিয়েন তার বক্তৃতায় বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল মৃত্যু, ধ্বংস ও অবর্ণনীয় দুর্দশা নিয়ে এসেছে। বুচার বিভীষিকার কথা আমাদের সবার মনে আছে। অনুমান করা হয়, এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ২০ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক ও এক লাখের বেশি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, রাশিয়াকে অবশ্যই একটি সার্বভৌম দেশে আগ্রাসন চালানোর ও অন্যান্য ভয়াবহ অপরাধের মূল্য দিতে হবে। এজন্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমরা রাশিয়ার আগ্রাসন তদন্ত ও বিচারের জন্য জাতিসংঘের অনুমোদনক্রমে একটি বিশেষায়িত আদালত গঠনের প্রস্তাব করছি। আমরা এ বিশেষায়িত আদালতের জন্য সর্বোচ্চ সমর্থন আদায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়াকে তার তাণ্ডবের আর্থিক মূল্য দিতে হবে। ইউক্রেনের আনুমানিক ৬০ হাজার কোটি ইউরো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়া সরকার ও সেদেশের ধনকুবেরদের এসব ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ইউক্রেনে পুনর্গঠনের ব্যয় বহন করতে হবে। রাশিয়া যাতে এ দাম চুকাতে বাধ্য হয় তা নিশ্চিত করার উপায় আমাদের হাতে আছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি ইউরোর সমপরিমাণ রিজার্ভ ব্লক করেছি। পাশাপাশি আমরা রুশ ধনকুবেরদের এক হাজার ৯০০ কোটি ইউরো জব্দ করেছি। এই অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের জন্য আমরা অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটি কাঠামো গঠন করতে পারি। পরে সেখান থেকে আহরিত মুনাফা আমরা ইউক্রেনের কাজে লাগাবো। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে এই অর্থ ইউক্রেন পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা যাবে, যাতে রাশিয়া তার কৃতকর্মের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো আমরা গঠন করবো।

এদিকে রাশিয়ার সাংবাদিকরা উরসুলা ফন ডার লিয়েনের বক্তৃতার সূত্র ধরে দাবি করছেন, ইউক্রেন এতদিন প্রাণহানির তথ্য গোপন করেছে। কিয়েভের কর্মকর্তারা নানা মাধ্যমে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় করে দেখালেও যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর নাকাল অবস্থার বিষয়টি তারা চেপে গেছেন।

ইসি প্রধানের বক্তৃতাটি গতকাল তার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট ও ইউরোপিয়ান কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। রুশ সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররা বক্তৃতাটি শেয়ার করে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দুরবস্থার প্রচারণা চালানো শুরু করলে কয়েক ঘণ্টার মাথায় টুইটার ও ওয়েবসাইট থেকে সেটি সরিয়ে নিয়ে নতুন একটি ভার্সন আপলোড করা হয়। নতুন ভার্সনে ইউক্রেনের বেসামরিক ও সামরিক প্রাণহানির বিষয়টি বাদ দিয়ে বক্তৃতার অন্যান্য অংশ অবিকৃত রাখা হয়েছে। ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রেসিডেন্টের বক্তৃতার যে টেক্সট ভার্সন দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও নিহতের সংখ্যার অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এখনো ২:১৫ মিনিটের বক্তৃতার মূল সংস্করণটি শেয়ার করছেন।