আপনি পড়ছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৪ হাজার ৩৩ কেজি স্বর্ণ রিজার্ভ হিসেবে মজুদ আছে। এছাড়া রুপা আছে ৫ হাজার ২৪৮ কেজি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

bangladesh bank 8১৪ হাজার কেজি স্বর্ণ আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৩ কেজি স্বর্ণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় আছে দুই হাজার ৩৬৩ কেজি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে জমা আছে পাঁচ হাজার ৮৭৬ কেজি। পাঁচ হাজার ৭৯৪ কেজি স্বর্ণ বিনিয়োগ করা হয়েছে লন্ডনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি ব্যাংকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে থাকা এসব স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে সাত হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মাধ্যমে আমাদের রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের হিসাব পরিচালিত হয়। অন্যদিকে লন্ডনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং এইচএসবিসি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা স্বর্ণ থেকে একটি মুনাফা বাংলাদেশ ব্যাংক পায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রিজার্ভের বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ রয়েছে। রিজার্ভ হিসেবে ততটুকুই গণনা করা হয়, যা চাওয়া মাত্র বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা যায়। রিজার্ভ শক্ত করার জন্য প্রায় সব দেশই স্বর্ণ মজুদ করে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ দেশের পছন্দের শীর্ষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের মজুদকৃত স্বর্ণেরও একটি বড় অংশ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা আছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিজার্ভের বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে প্রায় তিন হাজার কেজি স্বর্ণ আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কাস্টমসের কাছে বিভিন্ন সময় জব্দ হওয়া স্বর্ণ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করে। ওই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোনো স্বর্ণ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হলে সেটি স্থায়ী খাতে স্থানান্তর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্বর্ণগুলো বার হিসেবে থাকলে সেটি কিনে নিয়ে রিজার্ভে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর অলংকার হিসেবে থাকলে নিলামের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী খাতে দুই হাজার ৮৫০ কেজি স্বর্ণ আছে এবং স্থায়ী খাতে আছে প্রায় ১৫০ কেজি স্বর্ণ।