আপনি পড়ছেন

ইসরায়েলিদের হাতে প্রতি বছর আটক হয় অসংখ্য ফিলিস্তিনি। কারাগারে তাদেরকে নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়। তবুও তারা তাদের বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র সরে যায় না। ফলে দিন দিন তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। তবে এমন কঠিন অবস্থাতেও ইসরায়েলি কারাগারে বসেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেছেন ৭৭ জন ফিলিস্তিনি। সম্প্রতি তাদের সংবর্ধনা দেয় হামাস। খবর আলজাজিরা।

hamas 77 hafejহামাসের সংবর্ধনা

খবরে বলা হয়, ২০ বছর আগে ফিলিস্তিনের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ রামি আবু মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সেনারা। তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করতে না পারা সেই তরুণ কারাগারে কুরআন হিফজ করতে শুরু করেন। গত ২২ অক্টোবর ৪২ বছর বয়সে যখন জেল থেকে মুক্তি পান রামি আবু মোস্তফা, তখন তিনি রীতিমতো একজন কুরআনে হাফেজ।

২০ বছর আগে রামি যেসব ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, এখন সেগুলোর চেয়ে কুরআন হিফজের বিষয়টি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতো ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকা অসংখ্য শিশু, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ কুরআন হিফজ করছেন। বিষয়টি অনেক কঠিন। কারণ কারাগার কর্তৃপক্ষ টের পেলে তাতে বাধা দেয়। তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও চলছে এমন হিফজ কার্যক্রম।

hafejইসরায়েলের কারাগারে হাফেজ হয়েছেন অসংখ্য বন্দী

গত বৃহস্পতিবার হামাসের উদ্যোগে গাজায় এমন ৭৭ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের সম্মানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের এ সংগঠনটি। এ ধরনের হাফেজদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্যে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেন, ইসরায়েলি কারাগারকে ফিলিস্তিনিরা ইউসুফের (আ.) মাদরাসায় পরিণত করেছে। ইউসুফ (আ.) যেমন কারাগারে গিয়েও নিজের দায়িত্বের কথা ভুলে যাননি, তেমনি এসব ফিলিস্তিনিরাও কারাগারকে ইসলামের প্রসারে কাজে লাগিয়েছে।

দুই দশক পরে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া হাফেজ রামি আবু মোস্তফা বলেন, দখলদার গোষ্ঠী আমাদের শারীরিকভাবে হয়তো বন্দী করেছে, কিন্তু তারা কখনোই আমাদের চিন্তাশক্তি ও দৃঢ় ইচ্ছাকে বন্দী করতে সক্ষম হয়নি। পবিত্র কুরআন একজন মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়। একজন বন্দীর জন্য তা আরও বেশি আশা জাগায় এবং শক্তি জোগায়।

তিনি আরও বলেন, এই কারাগারে বসে পুরো কুরআন হিফজ করা আমার জন্য একই সাথে সম্মানের ও চ্যালেঞ্জের। তবে তা মোটেও সহজ ছিল না। কারা কর্তৃপক্ষ নানা উপায়ে আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করত। এসব কারণে আমাদের অনেকের হিফজ করতে ১০ বছরও সময় লেগে গেছে।

ফিলিস্তিনি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলের কারাগারে এখন প্রায় চার হাজার ৫৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৫ জন্য শিশু এবং ২৭ জন নারী। আর এদের মধ্যে ৬৭০ জন বন্দীকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর