আপনি পড়ছেন

ইরানের নৌবাহিনীর একটি টহল বোট যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজের গতিরোধের চেষ্টা চালিয়েছে। এ সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাইলটের চোখে স্পটলাইটের আলো ফেলা হয়। সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ অভিযোগ করেছে। খবর সিএনএন।

us navy uss the sullivans গত মাসে লোহিত সাগরে মিশরীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেয় ইউএসএস দ্য সুলিভানস

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ইরানের একটি টহল বোট স্পটলাইটের আলো ফেলে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজকে অস্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তিহীন করার চেষ্টা চালিয়েছে। ইরানি বোট মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দেড়শ গজের কম দূরত্বে চলাচল করেছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) টহল বোট অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ করেছে, যা নিরাপদ নৌ-আচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস দ্য সুলিভানস ও এক্সপেডিশনারি সি-বেইস প্ল্যাটফর্ম শিপ ইউএসএস লিউয়িস বি পুলার শ্রবণযোগ্য সতর্কবার্তা ও লেজার রশ্মি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ঘটনার সময় মার্কিন জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করছিল।

সেন্টকম মুখপাত্র কর্নেল জো বুচিনো বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রয়াসের আভাস দেয়। বিশেষত রাতের বেলায় ইরানি জাহাজটি স্পটলাইট তাক করে দুটি মার্কিন নৌযানের ব্রিজ (যেখান থেকে জাহাজ পরিচালনা করা হয়) অন্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছে এবং মার্কিন নৌযানের দেড়শ গজের ভেতরে বিপজ্জনকভাবে ক্রস করেছে।

এ ঘটনায় ইরানের বক্তব্য জানা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সমুদ্রপথে মার্কিন ও ইরানি নৌযানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন ইরানে বিক্ষোভ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে শক্তিপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। ইরান সরকার সে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীকে ড্রোন সরবরাহের অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নৌযানকে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ইরানের বিরুদ্ধে। একাধিকবার ইরানের নৌবাহিনী মার্কিন নৌযান আটক করেছে। গত সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ টনের বেশি গোলাবারুদ আটকের দাবি করেছে। ইরান থেকে ওই গোলাবারুদ সমুদ্রপথে ইয়েমেনে পাঠানো হচ্ছিল বলে সেন্টকম জানিয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর