আপনি পড়ছেন

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েছে পুলিশ। বুধবার বেলা সোয়া চারটার দিকে পুলিশের একটি দল কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর বেলা সাড়ে চারটার দিকে সেখানে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে তাকে বাধা দেয় পুলিশ। পরে তিনি কার্যালয়ে না ঢুকে সামনেই বসে পড়েন।

mirza fakhrul islam alamgir 14কার্যালয়ের সামনে বসে পড়লেন মির্জা ফখরুল

এ সময় তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের যেভাবে আটকে রেখে হামলা চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং বেআইনি। এই হামলার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে পুলিশকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। তারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আমাকে অফিসে পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে মির্জা ফখরুল কার্যালয়ের সামনে আসার কিছুক্ষণ আগে কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি) ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একজন নিহত হন। নিহতের নাম মকবুল আহমেদ।

এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জনকে ঢামেক হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে মকবুল আহমেদ মারা যান।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুরের দিকে বেশ ভিড় দেখা যায়। বেশি ভিড় হয়ে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।

একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে।

এ সময় অনেকে আহত হন। আহতরা হলেন- বোরহান উদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের কর্মী আনোয়ার ইকবাল, পল্টন থানা যুবদলের কর্মী মো. খোকন, মো. মনির হোসেন, মো. রাশেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের ছাত্রদল নেতা মো. ইয়াসির আরাফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতা মো. সুমন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. জহির হাসান, রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. শামীম, কদমতলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. হানিফ, মো. হৃদয়, মো. মকবুল হোসেন।

এছাড়া বিএনপির দাবি, তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

মতিঝিল জোনের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভিড় করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ করি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের গুলি চালানো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর