আপনি পড়ছেন

প্রচারমাধ্যম তার নাম দিয়েছে দি সারপেন্ট। সাপের মতো বারবার খোলস পাল্টে নতুন পরিচয় নেওয়ার কারণেই এমন নাম। তার জীবনের গল্প নিয়ে বিবিসি ও নেটফ্লিক্সের নির্মিত সিরিজ পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। মিডিয়ার মাতামাতি আর মানুষের আগ্রহ যতোই থাকুক, ব্যক্তিগতভাবে কেউ হয়তো তার মুখোমুখি হতে চাইবেন না। কারণ তিনি এক ভয়ঙ্কর অপরাধী, সিরিয়াল কিলার। নাম তার চার্লস শোভরাজ। নেপালের সর্বোচ্চ আদালত তার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। খবর এএফপি।

nepal charles shovraj২০০৩ সালে নেপাল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন চার্লস শোভরাজ

চার্লস দি সারপেন্ট শোভরাজ। জাতীয়তা ফরাসি। কেতাদুরস্ত, সপ্রতিভ, সুদর্শন। বাইরে থেকে দেখতে যতটা আকর্ষক, ভেতরের মানুষটা আর তার জীবন ততই কালিমালিপ্ত, অমসৃণ। ছোটবেলা কেটেছে অবহেলায়। ছিঁচকে চুরি, মারামারি ও ছোটখাট অপরাধে বারবার ফ্রান্সের পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। কয়েকবার জেল খেটেছেন। বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখন ধীরে ধীরে দেশের বাইরে পা ফেলতে শুরু করেন তিনি।

সত্তরের দশকের শুরুর দিকে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে থাকেন চার্লস। একপর্যায়ে এসে পৌঁছেন ব্যাংককে। থাইল্যান্ডসহ পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তখন অনেকের কাছে তীর্থের মতো। বস্তবাদী জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পশ্চিমা সমাজের যেসব তরুণ-তরুণী যাযাবর হিপ্পি হয়ে উঠেছিল, থাইল্যান্ড বার্মা ভারত নেপালের মঠ-মন্দির, তুলনামূলক সহজ জীবনধারা দেখে তারা দলে দলে এসব দেশে ঘুরতে আসছিল।

আধ্যাত্মিকতার খোঁজে স্বপ্নালু চোখে প্রাচ্যে ছুটে আসা পশ্চিমা তরুণ-তরুণীদের টার্গেট হিসেবে বেছে নেন চার্লস। নিজের সপ্রতিভ, বন্ধুবৎসল আচরণকে পুঁজি করে প্রথমে বন্ধুত্ব, এরপর ঘনিষ্টতা। একপর্যায়ে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে মাদক খাইয়ে বা খাবারে মাদক মিশিয়ে অজ্ঞান করে তাদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে খুন করতেন চার্লস।

১৯৭৫ সালে পাতায়া বিচে বিকিনি-পরিহিতা এক আমেরিকান তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে ২০টির বেশি হত্যাকাণ্ডে চার্লসের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় পুলিশ। কারও গলায় ফাঁস দিয়ে, কাউকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, যাকে হত্যা করেছেন, তার পাসপোর্ট ব্যবহার করেই নতুন দেশে ভ্রমণ করেছেন চার্লস। আইনের হাত থেকে পালাতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন পরিচয়ে ভ্রমণের কারণেই তাকে দি সারপেন্ট নাম দেওয়া হয়।

১৯৭৬ সালে দিল্লীর একটি হোটেলে এক ফরাসি পর্যটক খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মারা যান। তদন্তে নেমে পুলিশ চার্লসের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার শেষে আদালত হত্যার দায়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন। আখেরে চার্লস ২১ বছর জেলে কাটিয়েছিলেন কারণ ১৯৮৬ সালে একবার জেল থেকে পালিয়ে পরে গোয়ায় আবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

১৯৯৭ সালে ভারতের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে চার্লস শোভরাজ ফ্রান্সে ফিরে যান। ২০০৩ সালে কাঠমান্ডুতে নেপাল পুলিশ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। ১৯৭৫ সালে নেপালে মার্কিন পর্যটক কনি ব্রনজিচকে হত্যা করেছিলেন চার্লস। কনি ব্রনজিচ ও তার সঙ্গী মার্কিন পর্যটককে হত্যার মামলায় নেপালের আদালত চার্লসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেন। ২০০৮ সালে জেলে থাকা অবস্থায় চার্লস তার নেপালি আইনজীবীর মেয়ে নিহিতা বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। কনের বয়স চার্লসের চেয়ে ৪৪ বছর কম।

চার্লস শোভরাজের বয়স এখন ৭৮ বছর। নেপালের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার স্বাস্থ্যগত বিবেচনায় তাকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে জেলে আটকে রাখা কয়েদীর মানবাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নতুন কোনো মামলা না থাকলে তাকে অবিলম্বে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফিরতে দিতে হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Get the latest world news from our trusted sources. Our coverage spans across continents and covers politics, business, science, technology, health, and entertainment. Stay informed with breaking news, insightful analysis, and in-depth reporting on the issues that shape our world.

360-degree view of the world's latest news with our comprehensive coverage. From local stories to global events, we bring you the news you need to stay informed and engaged in today's fast-paced world.

Never miss a beat with our up-to-the-minute coverage of the world's latest news. Our team of expert journalists and analysts provides in-depth reporting and insightful commentary on the issues that matter most.