আপনি পড়ছেন

মালয়েশিয়ার জোহোর বারুতে অভিযান চালিয়ে ২১৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২৩ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। শনিবার (৮ জুন) দুটি ভিন্ন এলাকার শ্রমিক বসতিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

214 illegal immigrants arrested in malaysiaছবি - সংগৃহীত

ইমিগ্রেশন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) জাফরি এমবোক তাহা জানান, ১৪০ জন কর্মকর্তা ও স্টাফ নিয়ে প্রথম অভিযানটি শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়। এ অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দুই স্থানীয় ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জনগণের কাছ থেকে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামপুং বেলোকোকে অভিযান চালানো হয়। এরপর দুই সপ্তাহ ধরে বিভাগীয় কর্মী ও ড্রোন ইউনিট এলাকাটিতে নজরদারি চালায়।

অভিযানকালে মোট ২৫২ জনকে তল্লাশি করা হয়, যাদের মধ্যে ৯২ জনকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চীনের ৩০ জন, ভারতের ৪ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪ জন, বাংলাদেশের ৫৩ জন এবং পাকিস্তানের একজন পুরুষ। এরা সবাই ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী। এ সময় অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৬২ বছর বয়সী এক স্থানীয় ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে দেখা যায়, শ্রমিক বসতিটি যে নির্মাণস্থলে অবৈধ অভিবাসীরা কাজ করত, তার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

দ্বিতীয় অভিযানটি শুরু হয় ভোর ৩টা ২০ মিনিটে দাঙ্গা সিটি মলের কাছে অবস্থিত আরেকটি শ্রমিক বসতিতে। এটিও জনগণের দেওয়া গোপন সংবাদ ও দুই সপ্তাহ নজরদারি করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানটিতে অধিক সংখ্যক শ্রমিক জড়িত ছিল। এখানে ৭২৫ জনকে তল্লাশি করে ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এ সময় অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক স্থানীয় ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানে বাংলাদেশের ৭০ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৩১ জন, মিয়ানমারের ২০ জন এবং পাকিস্তানের একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাফরি জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) একটি জাল কার্ড বহনের দায়েও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যক্তিটি নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক বলে দাবি করলেও পটভূমি যাচাইয়ে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে নথিভুক্ত করার জন্য জোহোর বারুর সেটিয়া ট্রপিকায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাফরি সতর্ক করে বলেন, বৈধ উৎস থেকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে গিয়ে কিছু অভিবাসী সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত সময় অবস্থানের অভিযোগে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ৬(১)(সি) এবং ১৫(১)(সি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযানগুলো জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, সিভিল ডিফেন্স ফোর্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং রেলাসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়।