আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ওপেনার উসমান খাজা। তবে ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার মুহূর্তে কেবল বিদায়ের সুরই বাজেনি, উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর অভিমানও। বিদায়বেলায় এই অজি ব্যাটার বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। জানিয়েছেন, পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে অন্য অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের তুলনায় তাকে ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে এবং তিনি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন।

উসমান খাজা

শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) পরিবারকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন খাজা। আগামী রবিবার (৪ জানুয়ারি) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পথচলা থামবে। স্ত্রী র‍্যাচেল, দুই কন্যা এবং বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বেশ খোলামেলা কথা বলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার।

বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক এক বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন খাজা। অ্যাশেজে পার্থ টেস্টের আগে তিন দিন গলফ খেলার পর পিঠের চোটে (ব্যাক স্প্যাজম) ভোগেন তিনি, যার ফলে ওপেন করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া ও সাবেক ক্রিকেটাররা তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। খাজা দাবি করেন, এই সমালোচনার পেছনে বর্ণবাদী ইঙ্গিত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পিঠে স্প্যাজম ছিল, এটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু যেভাবে মিডিয়া আর সাবেক ক্রিকেটাররা আমাকে আক্রমণ করেছেন—তা আমি দুই দিন সহ্য করতে পারতাম, কিন্তু টানা পাঁচ দিন চলেছে। বলা হয়েছে আমি নাকি দল নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভাবি, আগের দিন গলফ খেলেছি, স্বার্থপর, ঠিকমতো অনুশীলন করি না, অলস। এগুলো সেই একই স্টেরিওটাইপ—বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ—যার সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটাররা একই পরিস্থিতিতে পড়লে তাদের নিয়ে এমন সমালোচনা হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি জশ ইংলিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের কথা উল্লেখ করেন। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গলফ খেলতে গিয়ে জশ ইংলিস আহত হয়েছিলেন এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে গলফ কার্ট থেকে পড়ে কনকাশনে ভুগেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। খাজার মতে, তাদের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়নি, যার মূল কারণ তাদের গায়ের রং। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই নিজেকে একটু ভিন্ন মনে করেছি, এখনও করি। কারণ আমি মিশ্র বর্ণের ক্রিকেটার। আমার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলই আমাদের সেরা দল, গর্বের জায়গা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাকে অনেক দিক থেকেই আলাদা করে দেখা হয়েছে আচরণে।’

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৮ হাজারের বেশি রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। খেলেছেন ৮৭টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে সিডনিতে তার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, সেখানেই ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের উঠে আসার গল্পের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খাজা বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, আমি সিডনি ভেন্যুর কাছেই থাকি—কুক রোডে। ছোটবেলায়, যখন আমার বাবা-মা খুব কষ্ট করে দুই বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাটে আমাদের মানুষ করছিলেন, তখনই ভাবতাম—একদিন আমি টেস্ট ক্রিকেটার হবো।’

ক্যারিয়ারের শেষের দিকে এসে ২০২২ সালে এই এসসিজিতেই যেন পুনর্জন্ম হয়েছিল খাজার। কোভিডে আক্রান্ত ট্রাভিস হেডের বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর দলে ফেরার প্রথম দুই বছরে সাতটি সেঞ্চুরি করেন এবং ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হন তিনি। বিদায়ের মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তা, পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খাজা বলেন, ‘ক্রিকেটের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাকে কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি দিয়েছেন। তবে কোনও ক্যারিয়ার একার নয়। আমার বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা—তাদের ত্যাগ কখনোই হাইলাইটস হিসেবে আসেনি।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.