ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই পর্বে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক। শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) সারা দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্যের গরমিল, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে এসব প্রার্থীর আবেদন নাকচ করা হয়। এছাড়া রংপুরে যাচাই-বাছাই চলাকালে দুই প্রার্থীর মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের লোগো

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আদালত অবমাননার একটি মামলায় হামিদুর রহমান আযাদের সাজা হয়েছিল। যদিও তিনি হলফনামায় এই তথ্য উল্লেখ করেছেন, তবে রায়ের কপি বা যথাযথ ব্যাখ্যা জমা দেননি। ১৯৭২ সালের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে বিষয়টি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকা আয়কর বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠলেও উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় কর বিভাগ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে।

এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদের আইনজীবী আকতার উদ্দীন হেলালী দাবি করেন, ২০১৩ সালে একটি বক্তব্যের জেরে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন, যা তিনি ভোগ করেছেন। আইনজীবী বলেন, ‘সাজা খাটার পরই মামলার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। তাছাড়া এটি আদালতের সাধারণ অপরাধের ধারায় পড়ে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পেরেছিলেন, তাই এবার বাধা আসার কারণ বোধগম্য নয়।’ তিনি জানান, তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন এবং প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। এই আসনে বিএনপির আলমগীর ফরিদ ও জাতীয় পার্টির মাহমুদুল করিমসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। একই আসনে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নও বাতিল হয়। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন টেকেনি। তবে বিএনপির মীর শাহে আলম ও জামায়াতের মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভোটার স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণেও বেশ কয়েকজনের প্রার্থিতা সংকটে পড়েছে। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করলেও তার চূড়ান্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেননি। একই কারণে নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের ড. মো. আজাবুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তিনি মাত্র ১০ দিন আগে নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ সোহেলের হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা এবং নাগরিক তথ্যে ঘাটতি থাকায় তার আবেদন নাকচ হয়। এই জেলায় মোট ৪৪ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় তিনটি আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফটিকছড়ি ও সন্দ্বীপ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নে ত্রুটি থাকায় বাদ দেওয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মহিউদ্দিনসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর আগের দিন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনেও বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়।

এদিকে রংপুর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আকতার হোসেন প্রকাশ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই আসনে মোট তিনটি মনোনয়ন বাতিল হলেও আকতার হোসেন ও মাহবুবার রহমান উভয়ের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.