নতুন বছরে বিশ্ব অর্থনীতির বড় তিন ঝুঁকি: এআই, ঋণ ও ভূ-রাজনীতি
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
‘এআই বাবল’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফোলা বেলুন ফেটে যাওয়ার আতঙ্ক, সরকারি ও বেসরকারি ঋণের রেকর্ড পরিমাণ বোঝা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার চাপ নিয়ে নতুন বছরে প্রবেশ করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ২০২৫ সাল পার করে আসার পর মুদ্রানীতি শিথিল ও মূল্যস্ফীতি কমলেও এবং বিশ্ববাণিজ্যে রক্ষণশীল মনোভাব বাড়লেও পুরোনো কিছু ঝুঁকি ২০২৬ সালেও থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএনজি থিংক, ক্যাপিটাল ইকোনমিকস ও ডেলয়েটের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আনাদোলু এজেন্সির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে অনেক দেশে মূল্যস্ফীতি কমার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোনো কোনো অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। তাই গত বছরের মতো এ বছর মূল্যস্ফীতিই একমাত্র বড় ঝুঁকি হিসেবে থাকবে না।
২০২৬ সালের অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘এআই বাবল’-কে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকায় এ খাতে বিনিয়োগ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এআই থেকে বাস্তবে কতটা অর্থ উপার্জন বা ‘মনিটাইজেশন’ সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে নির্মাণ ও মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিতে এআই খাতের বড় অবদান ছিল। এখন যদি হঠাৎ এ খাতে বিনিয়োগ কমে যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে পূর্ণাঙ্গ মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এআই দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করবে। তবে স্বল্পমেয়াদে এআই অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগ অন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুতের চাহিদাও ১০ শতাংশই আসবে ডেটা সেন্টারগুলো থেকে। এই বাড়তি চাহিদা বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স ইনস্টিটিউটের (আইআইএফ) ঋণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এই ঋণ বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৩১০ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত ও উদীয়মান—উভয় ধরনের অর্থনীতিতেই ঋণের মাত্রা নতুন রেকর্ড গড়েছে। উচ্চ সুদহার ও ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা। বিশেষ করে বিরল খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’ সরবরাহের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি আলোচনার পর ১২ মাসের একটি যুদ্ধবিরতি বা সাময়িক সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময় শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অপরিবর্তিত থাকার কথা। তবে এই ‘সাময়িক শুল্ক যুদ্ধবিরতি’ বেশ নড়বড়ে। উত্তেজনা বাড়লে সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর বড় আঘাত আসতে পারে।
জ্বালানি তেলের বাজার নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ক্রমাগত হামলার কারণে তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন হস্তক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকা দেশটির তেল খাতে ওয়াশিংটন খুব শক্তিশালীভাবে যুক্ত থাকবে।’ ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শীতল হচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা আশানুরূপ বাড়ছে না। এটি কর্মসংস্থান ও পারিবারিক ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্রান্সে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ার কারণে বাজেট ঘাটতি ও ঋণের ঝুঁকি আরও প্রকট হতে পারে।
চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে, যার মূলে রয়েছে আবাসন খাতের দুর্বলতা। বাড়ির দাম কমে যাওয়ায় আবাসন বাজারের সমস্যা আরও গভীর হয়েছে, যা সিমেন্ট ও ইস্পাতের মতো শিল্পকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ডেভেলপার চায়না ভ্যানকে বন্ডের অর্থ পরিশোধে এক বছরের সময় চাওয়ায় ঋণখেলাপির আশঙ্কা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বেইজিং ২০২৪ সালে বাজারে ব্যাপক সহায়তা দিলেও ২০২৫ সালে হস্তক্ষেপ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা সফল হলে পূর্ব ইউরোপে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরতে পারে। রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঝুঁকি কমবে এবং গ্যাসের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জ্বালানির দাম কমলে তা বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.