আপনি পড়ছেন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর এবার কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও কিউবার দিকে নজর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাতিন আমেরিকার এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক হুমকির জেরে তারা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক শক্তির সামনে এবং আকাশছোঁয়া প্রতিরক্ষা বাজেটের বিপরীতে এই দেশগুলোর সক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিশ্লেষণ।

সম্পাদিত ছবি

ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে ‘অসুস্থ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি ‘শুনতে ভালো’। পেট্রো অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের পর বলেছেন, হুমকিটি আপাতত ‘স্থবির’ অবস্থায় আছে, তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমার ভুলও হতে পারে।’

ট্রাম্পের হুমকির তালিকা থেকে বাদ পড়েনি মেক্সিকোও। তিনি অভিযোগ করেছেন, মেক্সিকো কার্টেল বা অপরাধী চক্র দ্বারা শাসিত এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও মাদক পাচার রোধে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কার্টেল গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভূমিতে আঘাত হানতে’ যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তেল ভর্তুকি হারানোর পর কিউবা ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করুন।’ তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে কোনো তেল বা অর্থ দেবে না।

সামরিক জনবল, অস্ত্র ও সম্পদের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত বাহিনীগুলোর একটি। দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট পরবর্তী ১০টি দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি। গত বছর ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল ৮৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের জন্য ৯০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য ট্রাম্প এই বাজেট বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কলম্বিয়া: কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী মূলত কয়েক দশক ধরে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাত, গেরিলা যুদ্ধ এবং মাদক কার্টেল দমনে অভিজ্ঞ। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী ১৪৫টি দেশের মধ্যে কলম্বিয়ার অবস্থান ৪৬তম। দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সাল থেকে প্রকৃত অর্থে প্রায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর মতে, ব্রাজিলের পাশাপাশি কলম্বিয়া লাতিন আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশ।

তবে স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেট্রো স্বীকার করেছেন যে, কলম্বিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও এগুলো কিনিনি কারণ আমাদের লড়াই অভ্যন্তরীণ। গেরিলাদের কাছে এফ-১৬ বিমান নেই... আমরা এখানে যা ব্যবহার করি তা হলো গণপ্রতিরক্ষা।’

বিমান বাহিনী আধুনিকায়নে কলম্বিয়া গত বছর সুইডিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি সাব-এর সঙ্গে ১৭টি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে। এগুলো দেশটির চার দশকের পুরনো ইসরায়েলি তৈরি কেফির জেটের স্থলাভিষিক্ত হবে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের তথ্যমতে, বর্তমানে কলম্বিয়ার ২ লাখ ৯৩ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্য, ৪৩৬টি সামরিক বিমান এবং ৪টি সাবমেরিনসহ ২৩৩টি নৌযান রয়েছে। তবে আশির দশকে বামপন্থী বিদ্রোহীদের দমনের জন্য গঠিত আধাসামরিক বাহিনীগুলোর অনেকগুলোই এখন সংগঠিত অপরাধী চক্রে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মেক্সিকো: মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সে দেশটির অবস্থান ৩২তম। মেক্সিকোর সক্রিয় সেনাসদস্য রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার, যাদের সহায়তায় রয়েছে ৪৩৩টি সামরিক বিমান এবং ১৬৭টি নৌযান। দেশটির সেনাবাহিনী নিজস্বভাবে উৎপাদিত হালকা সাঁজোয়া যান ও নৌযানের পাশাপাশি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে।

আইআইএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সংগঠিত অপরাধ দমনের জন্য গঠিত ‘ন্যাশনাল গার্ড’-এর ভূমিকা দেশটিতে ক্রমশ বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার। তবে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম সামাজিক ব্যয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় ২০২৫ সালের বাজেটে তা কমিয়ে প্রায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। দেশটির শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলো সামরিক মানের অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, যা মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ।

কিউবা: কিউবার প্রতিরক্ষা মডেল কোনো প্রথাগত অভিযানমূলক সামরিক বাহিনীর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং এটি একটি দেশব্যাপী আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশটির রেগুলার আর্মি বা রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস (ফার)-এর সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪৫ হাজার ৫০০। তবে কিউবার মূল শক্তি হলো এর বিশাল আধাসামরিক বাহিনী, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ১.১৪ মিলিয়ন। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আধাসামরিক বাহিনী।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সে কিউবার অবস্থান ৬৭তম। জ্বালানি সংকট এবং পুরনো রুশ ও সোভিয়েত আমলের অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতাকে সীমিত করেছে। তবে কিউবা সম্প্রতি বেলারুশের সহযোগিতায় সীমিত পরিসরে আধুনিকায়নের পথে হাঁটছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাভানা তাদের এস-১২৫ পেচোরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নে বেলারুশিয়ান ফার্ম আলেভকুরপ-এর সঙ্গে কাজ করছে। এসআইপিআরআই-এর আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলার।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.