আপনি পড়ছেন

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো বর্বরোচিত হামলাটি নিকটবর্তী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ ঘাঁটিতে আক্রমণের সময় ঘটে থাকতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু।

বিশ্লেষণ: আইআরজিসি ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার সময়ই ইরানের স্কুলে হামলা হয়
ছবি - সংগৃহীত

এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে আইআরজিসির একটি নৌ ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলার সময়ই ওই বিদ্যালয়টিতে আঘাত হানা হয়।

সংবাদমাধ্যমটির পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে সামরিক ঘাঁটির ভেতরের অন্তত ছয়টি ভবনে সুনির্দিষ্ট আঘাত এবং বিদ্যালয়ের কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছবিগুলো পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ধ্বংসযজ্ঞের ধরন দেখে এটিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মতো মনে হয়েছে।’ তার মতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ভুলের কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বিবিসির তথ্য যাচাইকারী দল বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে বিদ্যালয় এবং আইআরজিসি স্থাপনার চারপাশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও পোড়া দাগ দেখা গেছে। বিবিসির উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞরা জানান, গর্ত ও পোড়া দাগের ঘনত্ব দেখে বোঝা যায়, ওই এলাকায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরপর কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষক জ্যামন ভ্যান ডেন হোয়েক সম্প্রচারমাধ্যমটিকে জানান, এত কাছাকাছি একাধিক আঘাতের চিহ্ন প্রমাণ করে যে সেখানে পাশাপাশি একাধিক লক্ষ্যবস্তু ছিল। অন্য একজন বিশ্লেষকের মতে, বিদ্যালয়ের ভবনের ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে মনে হচ্ছে সেখানে এমন গোলা ব্যবহার করা হয়েছে যা গভীর কাঠামো ভেদ করতে সক্ষম।

যাচাইকৃত ভিডিও, স্যাটেলাইট চিত্র এবং উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, বিদ্যালয়টি আইআরজিসির বেশ কয়েকটি ভবনের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যার মধ্যে একটি নৌ চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটির উদ্ধৃত গবেষকরা সামরিক ঘাঁটির পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি দেয়াল দিয়ে বিদ্যালয়টিকে ঘাঁটি থেকে আলাদা করা হয়েছিল।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের অবস্থান, হামলার সময় এবং আশপাশের ভবন থেকে ওঠা ধোঁয়া প্রমাণ করে যে, আইআরজিসি কমপ্লেক্সের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর হামলার সময়ই বিদ্যালয়টিতে আঘাত হানা হয়। এই ঘৃণ্য অপরাধের বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলে, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

উদ্ধারকর্মী ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই হামলায় ডাবল-ট্যাপ কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এটি এমন একটি কৌশল, যেখানে প্রথম হামলার পরপরই একই স্থানে দ্বিতীয়বার আঘাত হানা হয়। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যালয় এলাকায় দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে প্রথম হামলার পর আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হতাহত হন।

সংবাদমাধ্যমটির পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২০০ মিটার (৬৫৬ ফুট) দূরে আইআরজিসির কয়েকটি ভবনের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টিও দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহত্তর হামলার অংশ হিসেবেই ওই এলাকায় আঘাত হানা হয়েছিল।

সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার অভিযানের সময় এই বোমা হামলা চালানো হয়। মিনাব শহরটি দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের প্রধান এলাকার মধ্যেই অবস্থিত। স্যাটেলাইট চিত্রে মিনাব থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৪৯ মাইল) পশ্চিমে বন্দর আব্বাস এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার (২৪৮ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে কোনারাক নৌ ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, ওই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ স্থাপনায় বৃহত্তর মার্কিন হামলার সময়ই বিদ্যালয়ে এই বর্বরোচিত হামলা ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেছে। ইউনেস্কো বলে, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের হত্যা একটি গুরুতর লঙ্ঘন।’ তারা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার প্রকৃত ক্রম স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ্যে এলো। শনিবার থেকে ইরানের ওপর বড় পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাসহ প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক সম্পদ থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.