ফিদান: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় পরমাণু ইস্যুর জট খুলবে
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা আগামী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পাকিস্তানে পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। এই আলোচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা শিগগিরই দূর হবে বলে মনে করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। যদিও ইরান এই আলোচনা দাবির বিষিয়টি নাকচ করেছে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ফিদান বলেন, ‘যেহেতু ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে, তাই আমি বিশ্বাস করি পরমাণু ইস্যুতে আটকে থাকা এক বা দুটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
যুক্তরাজ্যে সরকারি সফরে থাকা ফিদান জানান, তুরস্ক আলোচনার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছিলাম, তবে সেই সময়ই বলেছিলাম যে এটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হবে না।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এখন বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক অবদান রাখার চেষ্টা করছি এবং সব পক্ষকে উৎসাহ দিচ্ছি।’
হাকান ফিদান জানান, পরমাণু ইস্যুতে অগ্রগতি হলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমতে পারে।
উপসাগরীয় এই জলপথের জন্য দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম পরিস্থিতিটি হলো আলোচনার মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া, যেখানে কোনো বিধিনিষেধ বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই অবাধে সমুদ্রপথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় পরিস্থিতি হলো, যদি আলোচনা ফলপ্রসূ না হয়, যুদ্ধ চলতে থাকে বা অন্য কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়, তখন হরমুজ প্রণালীর সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সেটিই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা চিহ্নিত করার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর এমন কিছু দিক আছে যা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আবার কিছু দিক নেই। আমাদের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ইরান ও মার্কিনিরা যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে একটি জোট সেখানে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন কারিগরি কাজ পরিচালনা করতে পারে।’
তুরস্ক সংঘাত-পরবর্তী পরিবেশে এ ধরনের মানবিক ও কারিগরি কাজের বিরোধিতা করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি সতর্ক করে জানান, কোনো পদক্ষেপে যদি নতুন করে সংঘাতে পক্ষ নেওয়ার আভাস পাওয়া যায়, তবে আঙ্কারা ভিন্ন অবস্থান নেবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবেদনশীলতার জায়গাগুলো স্পষ্ট। যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আমাদের আবার কোনো সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখা যায়, তবে আমাদের অবস্থান ভিন্ন হবে।’
ফিদান জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝে। মাইন অপসারণকে একটি মানবিক কাজ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এটিকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন, যা সব পক্ষের জন্যই উপকারী।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু হয়, যা পরে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাড়িয়েছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। এখন শত্রুতা অবসানের জন্য একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর দিকেই মূল মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন হাকান ফিদান। তিনি জানান, তার সফরকালে তুরস্ক-যুক্তরাজ্য কৌশলগত অংশীদারত্ব কাঠামো স্বাক্ষর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য এবং তুরস্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশ দুটি তাদের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, সক্ষমতা এবং শিল্পের মাধ্যমে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।’
এই চুক্তি স্বাক্ষরকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘সত্যিকার অর্থেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়’ বলে অভিহিত করেন।
হাকান ফিদান জানান, উভয় পক্ষ বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং ন্যাটো বিষয়ক ক্ষেত্রে কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করছে।
যুক্তরাজ্য সফরকালে তিনি ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ইরান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার মতো আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.