আপনি পড়ছেন

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে একসঙ্গে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। তাদের এই নতুন জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টুগেদার’ বা ‘একত্রে’, যার নেতৃত্বে থাকবেন বেনেট। রোববার সন্ধ্যায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেন।

নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে একজোট ইসরায়েলের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী
নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ

তেল আবিবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বেনেট ও লাপিদ জানিয়েছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয়লাভ করে একটি নতুন সরকার গঠন করা।

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বেনেট জানিয়েছেন, তার সম্ভাব্য সরকার একটি ইহুদিবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। তিনি আরও জানান যে, সরকার গঠনে তিনি কোনো আরব দলের ওপর নির্ভর করবেন না।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নিজেকে একজন উদার ডানপন্থি হিসেবে বর্ণনা করে জানান যে, তিনি দেশ পরিচালনায় পুরোপুরি প্রস্তুত।

বেনেট জানান, নির্বাচিত হলে তার প্রথম সিদ্ধান্ত হবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে একটি রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন করা। একই সঙ্গে সবার জন্য সেবা আইন প্রণয়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ আট বছর নির্ধারণ করার কথাও জানান তিনি।

ইসরায়েলের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, একজন প্রধানমন্ত্রী টানা নির্বাচনে জয়ী হলে নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ ছাড়াই ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

অন্যদিকে লাপিদ পুরো ইসরায়েলি মধ্যপন্থিদের বেনেটকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, বেনেট একজন আইন মান্যকারী উদার ডানপন্থির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাদের এই জোট বছরের পর বছর চলা অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পর দেশের পরিবর্তনের চাহিদাকে পূরণ করবে।

তিনি জানান, তাদের জোটের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ইহুদিবাদী সরকার গঠন করা। এই সরকার নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দুর্নীতি দমনের দিকে নজর দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে একত্রিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা না দিলেও আসন্ন নির্বাচনে একটি ইহুদিবাদী জাতীয় জোটের জয় নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

রোববার সকালে বেনেটের দপ্তর থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

এক বিবৃতিতে তার দপ্তর উল্লেখ করেছে, ‘এই পদক্ষেপ সংস্কারপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করবে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অবসান ঘটাবে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য সব প্রচেষ্টা বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে এবং ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে নিয়ে যাবে।’

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের একটি নতুন পর্ব শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দলগুলো এখন ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ার চেষ্টা করছে।

আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বর্তমান নেসেটের মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হবে এবং তখন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে লাপিদের ইয়েশ আতিদ দলের বর্তমানে ২৪টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বেনেট ২০২৬ দলের পার্লামেন্টে কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

তবে চ্যানেল ১২-এর এক জরিপ অনুযায়ী, আজ নির্বাচন হলে বেনেট ২০২৬ দল নেসেটে ২০ থেকে ২১টি আসন পেতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই জোটের কারণে নেতানিয়াহুর পক্ষে পরবর্তী সরকার গঠন করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইসরায়েল বেইতেইনু দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যান মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এই জোটকে অভিনন্দন জানাই এবং তাদের সাফল্য কামনা করি।’

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে মূল লক্ষ্য হলো ৭ অক্টোবরের সরকারকে প্রতিস্থাপন করা।’

চলতি মাসের শুরুর দিকে মারিভ পত্রিকার এক জরিপে দেখা গেছে, এখনই নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর জোট ৪৯টি আসন পাবে। অন্যদিকে বিরোধী জোট ৬১টি আসন নিশ্চিত করবে এবং আরব আইনপ্রণেতারা পাবেন ১০টি আসন।

সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়।

বেনেট ও লাপিদের এই জোট নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এক্সে বেনেট, লাপিদ এবং আরব রাজনীতিক মনসুর আব্বাসের একটি ছবি শেয়ার করে নেতানিয়াহু লিখেছেন, ‘তারা আবারও একই কাজ করবে।’

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দলটির পক্ষ থেকে এটিকে ডানপন্থিদের ভোট চুরির প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, সাবেক এই দুই প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এমন শক্তিগুলোর সাহায্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন।

জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও নতুন এই জোটের কড়া সমালোচনা করেছেন। আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই জোটের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রকে ইসলামি আন্দোলনের হাতে তুলে দেওয়া।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানান, বামপন্থিরা কীভাবে তাদের ভোট ভাগ করে তা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। তবে তিনি এই জোটকে মনসুর আব্বাসের সেবায় নিয়োজিত একটি জোট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.