খরার সঙ্গে বাড়বে আকস্মিক বন্যা, চরম হুমকিতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০৭০ সালের মধ্যে কৃষ্ণসাগর অববাহিকার তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টির তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকস অনুষদের অধ্যাপক বারিস ওনোল আনাদোলুকে জানান, তাপমাত্রা বাড়লে বাতাস বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে, যার কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ে। উচ্চ কার্বন নিঃসরণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০০৫-১৪ এবং ২০৬১-৭০ সালের জলবায়ু মডেল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বারিস ওনোল, ডক্টরাল গবেষক মেহমেত বারিস কেলেবেক এবং বার্ন ইউনিভার্সিটির ফুলডেন বাতিবেনিজ যৌথভাবে দুই বছর ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করেন।
এই গবেষণায় স্বল্পস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাত, তাপপ্রবাহ, তুষারপাত হ্রাস এবং ঋতুভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী দেশগুলোর পাশাপাশি তুরস্কের কৃষ্ণসাগর ও মারমারা অঞ্চল, এজিয়ান, সেন্ট্রাল আনাতোলিয়া এবং পূর্ব আনাতোলিয়ার উত্তরাঞ্চলের সম্ভাব্য জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই অববাহিকায় গড় তাপমাত্রা শীতে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি, বসন্তে প্রায় ২.৫ ডিগ্রি, গ্রীষ্মে ৩ ডিগ্রি এবং শরতে ১.৫ থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
পূর্ব আনাতোলিয়ার পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা আরও দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চ মাসে কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই উষ্ণায়নের সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়বে তাপপ্রবাহের ওপর। বর্তমানে বছরে ৫ থেকে ১০ দিন তাপপ্রবাহ থাকলেও ভবিষ্যতে তা বেড়ে বছরে ৫০ থেকে ৫৫ দিন হতে পারে। বসন্তকালে তুষারপাত প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। উঁচু অঞ্চলে তুষারের সর্বোচ্চ গভীরতা ১২৫ সেন্টিমিটার থেকে কমে ৮০ সেন্টিমিটারে নেমে আসতে পারে। এছাড়া চরম উত্তপ্ত দিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা অধিকাংশ অঞ্চলে ১৮ শতাংশ এবং পূর্ব আনাতোলিয়ার উঁচু এলাকাগুলোতে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণায় বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে একটি বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মারমারা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কৃষ্ণসাগর এলাকায় গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত ৫০ শতাংশের বেশি কমতে পারে। অন্যদিকে, শীতে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গবেষকরা জানান, এই ধরনটি খরা এবং আকস্মিক বন্যার দ্বৈত ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। চরম আবহাওয়ার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে পূর্ব কৃষ্ণসাগর উপকূল, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার কিছু অংশ এবং ইস্তাম্বুল ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলে বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২১০ মিলিমিটার হলেও ভবিষ্যতে তা ৪৩৭ মিলিমিটারে পৌঁছাতে পারে।
বারিস ওনোল জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ঘটে যাওয়া বন্যা পরিস্থিতি তাদের এই গবেষণায় উৎসাহিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল নিয়ে কাজ করছি। আমরা এটিকে আরও বিস্তৃত করতে চেয়েছিলাম এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম।’
ওনোল আরও জানান, ২০৪০-এর দশকের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তীব্র আকার ধারণ করবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করে ২ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছালে ২০৬০-এর দশকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আঞ্চলিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু সিমুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহ এখন আর শুধু গ্রীষ্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সারা বছর ধরে ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। এর ফলে কৃষিখাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ওনোল বলেন, ‘মার্চ মাসের তাপপ্রবাহ উদ্ভিদের আগাম বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, যা পরে এপ্রিলের তুষারপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
আধা-আবদ্ধ কাঠামোর কারণে কৃষ্ণসাগর অন্যান্য অনেক সাগরের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। প্রতি দশকে এর তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। গ্রীষ্মকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৫-২৬ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ২৯-৩০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বাড়লে চরম বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোই যথেষ্ট নয়, বরং অবকাঠামো, নগর পরিকল্পনা, কৃষি এবং পানি ব্যবস্থাপনাকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ওনোল। তিনি বলেন, ‘বায়ুমণ্ডলের কোনো সীমানা নেই। কোনো দেশের একার পক্ষে পদক্ষেপ নেওয়া যথেষ্ট নয়, তবে স্থানীয়ভাবে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। অভিযোজন নীতি আর পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.