আপনি পড়ছেন

জার্মানিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার গুঞ্জনের মধ্যেই দেশটিতে নব্য-নাৎসি বা ডানপন্থী চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আটটি শহরে এই তল্লাশি চালানো হয়। অন্যদিকে, দেশে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝে আগাম নির্বাচন এবং সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

চরমপন্থীদের ডেরায় তল্লাশি, আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করলেন জার্মান চ্যান্সেলর
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস

নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ভোরে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের আটটি শহরে ডানপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘ইয়ং অ্যান্ড স্ট্রং’ (জাং উন্ড স্টার্ক)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনায় ১০ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সবাই জার্মান নাগরিক। বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এন-টিভি জানায়, সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন এর আগে অন্য একটি মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় আটক ছিলেন। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থাও এই তদন্তে যুক্ত রয়েছে।

২০২৪ সাল থেকে জার্মানিতে তরুণ নব্য-নাৎসিদের দ্বারা পরিচালিত সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ অফিস (বিকেএ) জানিয়েছে, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে নতুন ডানপন্থী যুব সংগঠনগুলোর উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মূলত অনলাইনে শুরু হলেও এখন সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতায় জড়াচ্ছে। বর্তমানে এই সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘ইয়ং অ্যান্ড স্ট্রং’ সবচেয়ে বড়। এছাড়াও ‘জার্মান ইয়ুথ ফরওয়ার্ড’, ‘ডের স্টোরট্রুপ’ এবং ‘লেটজটে ভার্টেইডিগুঙ্গসওয়েল’ নামের আরও কয়েকটি গোষ্ঠী পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে জার্মানিতে ডানপন্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংস অপরাধের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭০টি। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৮টিতে এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ হাজার ৫৯৮টি অপরাধ নথিভুক্ত করা হয়, যা ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এর বেশিরভাগই ছিল হামলার ঘটনা।

এদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। মঙ্গলবার বার্লিনে একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জনমত জরিপে সমর্থন কমলেও তিনি তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ/সিএসইউ) এবং মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি)-এর জোট সরকার বজায় রাখবেন।

সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্টভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, সংখ্যালঘু সরকার গঠন করা আমার জন্য কোনো বিকল্প নয়। আমি এ ধরনের সরকারে যোগ দেব না এবং এমন পরিস্থিতি তৈরিও করব না।’

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি। মের্ৎস প্রশ্ন রাখেন, ‘কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে, নির্বাচনী প্রচারণা এবং এমন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা একটি দেশ এই মুহূর্তে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে?’

তিনি আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এসপিডির সঙ্গে জোট সরকার টিকিয়ে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ মে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পর চ্যান্সেলর মের্ৎসের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত রবিবার প্রকাশিত ইনসা (INSA) ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে দেখা যায়, ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা তার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাত্র ১৯ শতাংশ মানুষ তাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার বর্তমান জোট সরকারের প্রথম বছরকে সফল বলে মনে করছেন।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.