আপনি পড়ছেন

মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর পর্যালোচনা চলাকালীন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। মঙ্গলবার সিনেটের একটি সাবকমিটির শুনানিতে হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে মার্কিন সামরিক কৌশল, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়।

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে মার্কিন সিনেটে তীব্র বাদানুবাদ
মার্কিন সিনেট

কয়েক মাস আগে কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া ইউক্রেনের জন্য ৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তায় বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে হেগসেথকে বারবার প্রশ্ন করেন সিনেটর ক্রিস কুনস। তিনি জানতে চান, ইউক্রেনের জন্য এই অর্থ ব্যয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে কি না এবং কবে নাগাদ ব্যয়ের পরিকল্পনা জমা দেওয়া হবে। জবাবে হেগসেথ জানান, ইউরোপীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই তহবিল ছাড় করা হয়েছে এবং মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড (ইউকম) এই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তদারকি করবে।

তবে এই বিলম্বের জন্য প্রশাসনের সমালোচনা করে কুনস বলেন, ‘এখন মে মাস চলছে এবং এটি জানুয়ারি থেকেই আইনে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় এই সামান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের গড়িমসি করাটা পুতিনের কাছে সম্পূর্ণ ভুল বার্তা দিচ্ছে।’

শুনানিতে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেন্টাগন ইরানের জলপথ বন্ধ করা এবং তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা আগে থেকে অনুমান করতে পেরেছিল কি না, তা জানতে চান সিনেটর সুসান কলিন্স। সামরিক পরিকল্পনাবিদরা বেসামরিক নেতাদের জন্য বিকল্প প্রস্তুতির সময় সব ধরনের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেন বলে কেইন জানান। তবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া সামরিক পরামর্শের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে নিজেদের উদ্দেশ্য অর্জন করতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিনেটর ডিক ডারবিন। এর জবাবে কেইন বলেন, ‘আমাদের সামরিক উদ্দেশ্য সবসময়ই স্পষ্ট ছিল।’ তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো, ইরানি নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা এবং তেহরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে দুর্বল করার কথা উল্লেখ করেন। ব্যাপক মার্কিন সামরিক অভিযানের পরও ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে আছে, ডারবিন সেই প্রশ্ন তুললে কেইন বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি বেশ জটিল।’ তিনি এ সময় ওই অঞ্চলে ইরানের ব্যবহৃত ছোট নৌকা এবং অন্যান্য সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদের আলোচনায় কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

শুনানিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল কি না, তা জানতে চান। কেইন এর ইতিবাচক উত্তর দিলে গ্রাহাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা ইরানকে একটি পারমাণবিক দ্বারপ্রান্তের দেশে পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইরান যেন হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা ঠেকাতেও আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। কেন আমাদের আপনাদের কথা শোনা উচিত?’

পরবর্তীতে গ্রাহাম পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি বিমান রাখার সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললে হেগসেথ এবং কেইন দুজনেই চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। গ্রাহাম বলেন, ‘আমি এই আলোচনার মাঝখানে যেতে চাই। আমি পাকিস্তানকে একেবারেই বিশ্বাস করি না। তারা যদি সত্যি সত্যিই ইরানের সামরিক সরঞ্জাম রক্ষার জন্য নিজেদের ঘাঁটিতে ইরানি বিমান রাখার সুযোগ দেয়, তবে মধ্যস্থতার জন্য আমাদের অন্য কাউকে খোঁজা উচিত।’

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও হেগসেথ এবং কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সংঘাত পুরোপুরি সমাধানের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ওই জলপথ সুরক্ষিত করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ দাবি করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি এবং অবরোধ ইরানের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা ইরানের বন্দরগুলো থেকে কিছুই বাইরে নিতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত আমরাই প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণ করছি, কারণ আমরা যা প্রবেশের অনুমতি দিই না, তার কিছুই সেখানে ঢুকতে পারে না।’

তবে এই দাবি নাকচ করে দিয়ে কুনস জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর উপায় জানতে চান। জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘সামরিক উপায়ে অবশ্যই এই প্রণালী খুলে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ তিনি এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্থল লক্ষ্যবস্তু, নৌ অভিযান এবং মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করেন।

তবে ইরানের সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়ে প্রশাসনের দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সিনেটর জিন শাহীন। হেগসেথ বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির ধ্বংসযজ্ঞ ছিল স্পষ্ট এবং ব্যাপক।’ এর জবাবে শাহীন বলেন, ‘এটি আমার কাছে মোটেও স্পষ্ট নয়। ইরান এখনো ড্রোন তৈরি করছে, তারা এখনো এই সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। এত বড় বড় কথার পরও আমরা এই যুদ্ধে জিততে পারিনি।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.