চলমান বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই ৭৮তম ‘নাকবা’ দিবস পালন করল ফিলিস্তিনিরা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মাঝেই ৭৮তম ‘নাকবা’ বা মহা বিপর্যয় দিবস পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার (১৫ মে) ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। একইসঙ্গে ১৯৪৮ সালের এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৪৮ সালে আট থেকে প্রায় সাড়ে নয় লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আরবিতে এই ঘটনাকেই ‘নাকবা’ বলা হয়। নিজেদের অধিকার এবং লাখ লাখ শরণার্থীর নিজ ভূমিতে ফেরার দাবি আদায়ে প্রতি বছর ফিলিস্তিনিরা পদযাত্রা, প্রদর্শনী ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করে।
এবারের আয়োজনের মূল স্লোগান ছিল, ‘আমরা যাব না। তোমাদের ধ্বংসযজ্ঞের চেয়ে আমাদের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত।’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও প্রবাসী সম্প্রদায়গুলো নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। রামাল্লায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পদযাত্রায় ফিলিস্তিনি পতাকা, কালো ব্যানার এবং নিজ ভূমিতে ফেরার প্রতীকী চাবি প্রদর্শন করা হয়।
নাকবা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নাকবাকে জাতিগত নিধনের অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা এবং এর পরিণতি মোকাবিলায় কাজ করা।
ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং শরণার্থীদের ক্ষতিপূরণসহ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাকবা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি একটি চলমান অপরাধ।’
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ, পরিচয় মুছে ফেলা এবং সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই ইহুদিবাদী প্রকল্পের নকশা করেছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছিল ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণায়।
ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (পিসিবিএস) ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনের প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৩০০টি গ্রাম ও শহর দখল করে নেয়। এর মধ্যে ৫৩১টি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং ৭০টির বেশি গণহত্যার ঘটনায় অন্তত ১৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন। ব্যুরো জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বাইরে বসবাস করছেন।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ ৬০ হাজার, যার মধ্যে পশ্চিম তীরে ৩৪ লাখ ৩০ হাজার এবং গাজায় ২১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ রয়েছেন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় হত্যা, বাস্তুচ্যুতি এবং জীবনযাত্রার মান অবনতির কারণে জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার কমে গেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তৈরি হয়েছে চরম মানবিক সংকট।
একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, ধরপাকড় ও অবৈধ বসতি স্থাপন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ১৫৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন আহত এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, এই নীতিগুলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.