কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলার প্রকোপ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফ্রিকার দেশ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর বিবিসির

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ, একের পর এক মৃত্যু ও সীমান্ত পেরিয়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় আফ্রিকাজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই।
রোববার (১৭ মে) ডব্লিউএইচও জানায়, ডিআর কঙ্গোতে প্রায় ২৪৬ জনের সন্দেহভাজন ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৮০ জন। ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এই প্রাদুর্ভাব এখনো মহামারি জরুরি অবস্থার মানদণ্ড পূরণ করেনি।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করে জানান, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও সংক্রমণের বিস্তৃতি বিষয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, চলমান ইবোলা সংক্রমণটি বুন্ডিবুগিও ধরনের ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি, যার জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ কিংবা টিকা নেই। ইতোমধ্যে আটজনের আক্রান্ত হওয়া পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন কয়েকটি মৃত্যু ঘটেছে ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায়।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ উগাঙ্গাতেও পৌঁছে গেছে। সেখানে দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরেও ইবোলা ভাইরাস পাওয়া গেছে। জনসংখ্যা স্থানান্তর, বাণিজ্য ও ভ্রমণের কারণে কঙ্গো-সংলগ্ন দেশগুলোকে উচ্চঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ডব্লিউএইচও নির্দেশনায় কঙ্গো ও উগান্ডায় জরুরি অপারেশন কেন্দ্র স্থাপন করে নজরদারি, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, শনাক্ত রোগীদের অবশ্যই দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে নেওয়া দুইবারের পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা দিতে হবে।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে নজরদারি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আক্রান্ত এলাকার বাইরে অন্য কোনো দেশকে সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ-বাণিজ্য সীমিত করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিযুক্ত নয় এবং সাধারণত আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে নেওয়া হয়।
ইবোলা প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে। বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রাণঘাতী এই রোগের এটি কঙ্গোয় ১৭তম প্রাদুর্ভাব। সরাসরি সংস্পর্শ বা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়, যা রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলতার মতো জটিলতা সৃষ্টি করে। প্রাথমিক উপসর্গগুলো হলো জ্বর, পেশিব্যথা, অবসাদ, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা; পরে দেখা দেয় বমি, ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও রক্তপাত। এখনো ইবোলার নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই। এতে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।
শনিবার (১৬ মে) অনলাইন ব্রিফিংয়ে আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ড. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, প্রথম সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে মঙ্গবালু স্বাস্থ্য অঞ্চলে। এটি একটি ব্যস্ত খনিশিল্প এলাকা। রোগীরা চিকিৎসার জন্য অন্য এলাকায় যাওয়ায় সংক্রমণ রওয়ামপারা ও বুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তিনটি অঞ্চলে রোগ বিস্তার লাভ করেছে।
ড. কাসেয়া বলেন, মঙ্গবালু এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক সক্রিয় রোগী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রয়েছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণকে ‘গুরুতরভাবে জটিল’ করে তুলছে। ইতুরি অঞ্চলের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ইসলামিক স্টেট সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিয়মিত প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিআর কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালে। এই সময়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারায়। গত বছরও একটি দূরবর্তী এলাকায় নতুন প্রাদুর্ভাবে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.