আপনি পড়ছেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বিনিয়োগে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পে এই প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে চিপ, ডেটা সেন্টার ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে ব্যয় ব্যাপক হারে বাড়ছে।

এআই বিনিয়োগে রেকর্ড, তীব্র প্রতিযোগিতায় বিশ্ব
ছবি - সংগৃহীত

এনভিডিয়া, এএমডি, মাইক্রোসফট, গুগল এবং হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিগুলোতে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রতিরক্ষা খাতে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্রমবর্ধমান এই প্রতিযোগিতার মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে এআই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে।

সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে গত বছর, যখন কোম্পানিগুলো এআই খাতে সম্মিলিতভাবে ৩৪৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। আগের বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ১২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ১৩ বছরে মোট এআই বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেকই কেবল ২০২৫ সালে করা হয়েছে।

গত বছরের মোট বিনিয়োগের মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অবদান ছিল ২৮৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এরপরই রয়েছে চীনা কোম্পানিগুলো, যাদের প্রকাশ্যে আসা বিনিয়োগের পরিমাণ ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে কিছু দেশ ও কোম্পানি তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করপোরেট ও অন্যান্য খাতসহ মোট এআই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

এ ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯৫৩টি তহবিলপ্রাপ্ত কোম্পানি নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই ১৭২টি কোম্পানি নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ১৬১টি কোম্পানি নিয়ে চীন যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

তবে এআই-সম্পর্কিত প্রকাশনা, উদ্ধৃতি এবং পেটেন্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে চীন তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। শুধু গত বছরই দেশটি ৩৫টি পেটেন্ট অর্জন করেছে।

স্ট্যানফোর্ডের ওই প্রতিবেদনে তুরস্কের তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও আঙ্কারা তাদের কৌশল আপডেট করেছে। ঈদুল আজহার পর তাদের নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর আগে তুরস্ক ২০২১-২০২৫ মেয়াদের জন্য তাদের জাতীয় এআই কৌশলের আওতায় ছয়টি অগ্রাধিকার ও ১১৯টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতের এআই বিনিয়োগ জোরদার করা।

এআইয়ের দ্রুত প্রসারের ফলে এই প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত সামাজিক, নৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো মোকাবিলায় আইনি কাঠামো তৈরির চাপও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী এআই নীতিমালায় ডেটা নিরাপত্তা, কপিরাইট সুরক্ষা, ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলো প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং চীনের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক মডেল বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।

২০১৬ সালে জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোতে এআই-সম্পর্কিত কোনো আইন ছিল না, তবে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা ১৫০-এ পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে ২৫টি আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭টি এবং ফ্রান্স ও জাপানে ১০টি করে আইন রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবহন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং ব্যাংকিং ও অর্থায়নের মতো খাতগুলোকে আমূল বদলে দিচ্ছে এআই প্রযুক্তি।

কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ুজনিত প্রভাব কমাতে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। সেন্সর, স্যাটেলাইট চিত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে সেচের প্রয়োজনীয়তা, সারের ব্যবহার, ফসলের স্বাস্থ্য ও ফসল কাটার সঠিক সময় নির্ধারণ করা সহজ হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় এআই প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, মেডিকেল ইমেজিং, ওষুধ আবিষ্কার, রোগীর পর্যবেক্ষণ এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। মোবাইল প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ার কারণে রিমোট সার্জারির মতো কাজেও এর ব্যবহার বেড়েছে।

স্ট্যানফোর্ডের গবেষণা অনুযায়ী, পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে রুট নির্ধারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয়, স্বয়ংক্রিয় যান প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেইন পরিকল্পনায় এআই সহায়তা করছে। চালকবিহীন গাড়ি এবং স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।

জ্বালানি ও শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সহায়তা, সিস্টেমের ত্রুটির পূর্বাভাস দেওয়া এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে এআইয়ের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

প্রতিরক্ষা খাতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ইমেজ প্রসেসিং, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিগ্রহ, সাইবার নিরাপত্তা, সিমুলেশন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রযুক্তিতে এআই এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতেও এআই সিস্টেমের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে।

ব্যাংকিং ও অর্থায়নে জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ঋণ ঝুঁকি বিশ্লেষণ, গ্রাহকের আচরণ মডেলিং এবং ব্যক্তিগত সেবায় এআই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে সশরীরে ব্যাংকে না গিয়েই অনেক লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

এআই-নির্ভর জালিয়াতি এবং অন্যান্য অপব্যবহার বৃদ্ধিও বর্তমানে একটি বড় নীতিগত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকারগুলো এখন এআইকে উৎপাদনশীলতা, সেবা রপ্তানি, উৎপাদন ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলা অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.